পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা ইইউ’র

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩

পশ্চিম তীরে দখল করা এলাকায় ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সর্বশেষ অনুমোদনকে নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও তুরস্ক। ইসরাইলের এ বসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই রাষ্ট্রের সমাধান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে তুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে। গত ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর বসতি স্থাপনে দুই হাজার ১৯১টি বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দেয় ইসরাইলের উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা কমিটি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০১৯ সালের এপ্রিলে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর দেশটির উচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনা কমিটি এ অনুমোদন দিল।

এ অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার লিখিত এক বিবৃতিতে ইইউ জোর দিয়ে বলেছে যে, ইসরাইলের এ সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রের সমাধান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে দুর্বল করে তুলেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইলের অবৈধ বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা এবং এ সম্পর্কিত কার্যক্রমগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়েনের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব পদক্ষেপ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরাইলের এ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনকে ‘উত্তেজনা বাড়ানোর’ এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতিগুলো দুই রাষ্ট্রের সমাধানকে বিপন্ন করে তুলেছে। বসতি সমস্যার সমাধানই একমাত্র পথ যার মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অনুমতি পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপের বিষয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্তটি ‘অগ্রহণযোগ্য এবং হতাশাজনক’। ইসরাইলের এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাজ্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস্টার বার্ট বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই ধরনের কাজ অবৈধ। এমনকি ফিলিস্তিনের সঙ্গে ভবিষ্যতে শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইসরাইলের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

অপরদিকে শুক্রবার সকালে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলের এ ‘অবৈধ সিদ্ধান্তকে’ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন। ফিলিস্তিনের দখল করা জায়গায় মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাইকেল লিনক বলেছেন, ইসরাইল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৪০টির বেশি প্রস্তাব এবং সাধারণ পরিষদের প্রায় ১০০ প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।