হ্যাচারিগুলোতে হারিকেন বাতির তাপে ডিম ফুটে বের হওয়া হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হ্যাচারির ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে তাড়াশে দুই শতাধিক হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট হাজারও মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার মহেষ রৌহালী, নওগাঁ, কাজিপুর ও বলবা গ্রামের বেশ কয়েকটি হ্যাচারি ঘুরে দেখা গেছে, ঘরের মধ্যে বাঁশের মাচায় (বেডে) সারিবদ্ধভাবে বসানো বহু সংখ্যক হাঁসের ডিম লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। আর মাচার নিচে প্রয়োজন সংখ্যক হারিকেন বসিয়ে পরিমাণমতো তাপ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময় শেষে ডিম ফুটে হাঁসের বাচ্চা বের হচ্ছে। প্রতিটি হ্যাচারিতেই ডিম ও বাচ্চার পরিচর্যার কাজ করছেন পাঁচ/ছয় জন শ্রমিক।
মহেষ রৌহালী গ্রামের ছাইফুল ফকির বলেন, ২০০৮ সালের দিকে তাড়াশে হারিকেন হ্যাচারির ব্যবসা শুরু করি। তার দেখাদেখি গড়ে উঠেছে শতাধিক হ্যাচারি। ছাইফুল ফকিরসহ হ্যাচারি ব্যবসায়ী আলম ফকির, মকুল হোসেন, আজমল হোসেন, আজিজ মিঞা, সাহাদত হোসেন, কাদের হোসেন বলেন, উপজেলা জুড়ে কমপক্ষে দুই শতাধিক হারিকেন হ্যাচারি থেকে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হচ্ছে। এসব বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলাতে যায়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল না করায় কোথাও বাচ্চা বিক্রি করতে পারছি না আমরা। হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের পথে বসার মতো অবস্থা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ জে এম সালাহউদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হ্যাচারিতে নতুন করে ডিম ফুটানো যাবে না। আর যেসব হাঁসের বাচ্চা উঠেছে ও আগামী কয়েকদিন উঠবে সেগুলো আপাতত হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের কাছে রেখেই পরিচর্যা করতে হবে।
ইত্তেফাক/এসআই
