সরকারের নির্দেশনায় সাধারণ ছুটি বর্ধিতকরণের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কারখানায় ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তবে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে শ্রমিকদের গত মাসের বেতনের অর্থ পাওয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে উভয় সংগঠন ১৬ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল। নতুন করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য সময় বাড়ানো হলে অনেক শ্রমিকই আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। অবশ্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ ১৬ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য কারখানামালিকদের তাগিদ দিয়েছে। মজুরি পরিশোধের জন্য স্ব-স্ব সংগঠন ও শিল্পাঞ্চল পুলিশকে অবহিত করে ঐসব কারখানা খোলা যাবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তবে এর মধ্যে যেসব শ্রমিক ঢাকার বাইরে অবস্থান করছে কিংবা কারখানা থেকে বেশ দূরে, তাদের বেতনের অর্থ পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অন্য দিকে কয়েকটি এলাকায় এখন লকডাউন (অবরুদ্ধ) চলছে। বিশেষত শিল্প অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জে লকডাউন চলছে। একই পরিস্থিতি মিরপুরের কিছু এলাকায়ও। এর বাইরে নতুন নতুন এলাকা লকডাউনের আওতায় আসছে। ফলে এসব এলাকায় মানুষের যাতায়াতও কার্যত বন্ধ থাকায় শ্রমিকের বেতন দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসানের মালিকানাধীন ফতুল্লা অ্যাপারেল নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। অবশ্য তার প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে। কিন্তু অন্য অনেকেই পরিশোধ করেননি। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, কারখানামালিকরা মার্চের বেতন দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ লকডাউন থাকায় শ্রমিকের বেতন পাওয়া কঠিন হবে। কেননা সব শ্রমিকের তো মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ব্যাংকে হিসাব নেই। নতুন করে মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি করাও সম্ভব নয়, কেননা এসব বিষয় স্পর্শকাতর হওয়ায় শ্রমিকদের কারখানায় উপস্থিত হয়ে ভেরিফাই (যাচাই) করতে হয়। এই সময়ে কর্মকর্তারাও কারখানায় আসতে পারছে না। ফলে লকডাউন অবস্থা চলমান থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ শ্রমিকের বেতন পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিকেএমইএভুক্ত চালু থাকা ৮৩৩টি কারখানার মধ্যে ৩১৭টি মজুরি পরিশোধ করেছে।
অন্য দিকে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, অনেক কারখানা ইতিমধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে। মিরপুরসহ লকডাউনের আওতায় থাকা এলাকার যেসব কারখানা এখনো পরিশোধ করেনি, তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর কী প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করা যায়, তার উপায় বের করার চেষ্টা চলছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের আওতাধীন এলাকায় গার্মেন্টস, টেক্সটাইলসহ অন্যান্য কারখানার সংখ্যা ৭ হাজার ৬০২টি। শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আলোচ্য কারখানার মধ্যে এ পর্যন্ত মজুরি পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৩১৩ কারখানা। অন্য দিকে বন্ধের নোটিশ থাকা সত্ত্বেও ৭ হাজার ৬০২টি কারখানার মধ্যে চালু ছিল ২৭২টি। জানা গেছে, এর মধ্যে একটি অংশে চিকিত্সাকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) তৈরির কাজ চলছে।
