বাগমারায় চিকিত্সা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব গৃহবধূর!

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৬

স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক ও নার্সদের অবহেলার কারণে  চিকিত্সা না পেয়ে ক্লিনিকে নেওয়ার সময় রাস্তার ওপর সন্তান প্রসব করেছেন এক গৃহবধূ। তার নাম মাহামুদা আক্তার (২০)। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোপালপুর রাস্তায়। তিনি উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী। রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। জানা যায় বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে ব্যথা ওঠে মাহামুদার। পরিবারের সদস্যরা রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ঐ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক ও নার্স থাকলেও গর্ভবতী মাহামুদার চিকিত্সার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। তার পরিবারের সদস্যরা বার বার চিকিত্সকদের অনুরোধ করলেও তারা তাদের কথায় কর্ণপাত না করে অন্যত্র সন্তান প্রসবের কথা বলেন। পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে নেওয়ার পথে গোপালপুর গ্রামের পাকা রাস্তায় তিনি সন্তান প্রসব করেন। গোপালপুর গ্রামের লোকজন দেখতে পেয়ে ঐ এলাকার নারীদের দিয়ে গৃহবধূকে সেবাযত্নের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। সকালে পরিবারের অন্যা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ খবরে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকার লোকজন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সহযোগিতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিত্সক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ এমন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।