চরম সংকটে চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৭

করোনার প্রভাব

দোকানপাট বন্ধ 

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যারা স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করেন, করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউনের কারণে দোকান বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের উত্স বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও নিজের বাসা ভাড়া দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল এ ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

এদের অধিকাংশই কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল, খেলনাসামগ্রী, মেয়েদের প্রসাধনী, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, টেইলার্স, কম্পিউটার ও টেলিফোন, রেস্টুরেন্টসহ নানা পণ্যের কাঁচা-পাকা দোকানের ব্যবসায়ী।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছে। এখানকার দোকানি নুরুল আলম বলেন, ‘বেচাকেনা থাকলে খরচ বাদ দিয়ে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে। এ টাকা দিয়ে সংসার চলে। এখন বাসা ভাড়াসহ দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি।’

আরেক দোকানি মশিউর রহমান বলেন, চার মাস আগে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। ৩০ হাজার টাকা দোকানের মালিককে অগ্রিম দিতে হয়েছে। মাসে ২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় কাঁচাঘর ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে থাকি। এখন ধারকর্জ করে চলতে হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় এ ধরনের হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

নগরীর বহদ্দারহাট হক মার্কেট। এখানের ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে কয়েকশত দোকানি ব্যবসা করছেন। তাদেরও এখন মাথায় হাত। দোকানি অনিক বলেন, ‘দোকান ভাড়া ও এক কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ নিয়ে মাসে ১০ হাজার টাকা নির্ধারিত খরচ আছে। আয়ের বিকল্প কোনো উত্স নেই। মহাসমস্যায় পড়েছি।’ এই মার্কেটে শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এ ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিজের মানসম্মানের কারণে কারো কাছে সাহায্যও চাইতে পারছে না এসব নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ।

কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু সংলগ্ন এলাকায় দুই-তিনটি মার্কেটে কয়েকশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন। এখানকার দোকানি নুরু সওদাগর জানান, আয়-রোজগার বন্ধ। এভাবে কতদিন চলতে পারি তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

এছাড়া নিউমার্কেট মোড়ে ফুটপাতের ওপর হাজারো ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বেচাবিক্রি করতেন। তাদের আয়ের ওপর লাখ লাখ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। ফলে নগরীর ভাসমান হকাররা এখন আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। শুধু এসব এলাকাই নয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহর হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন। স্টিলমিল বাজার, বন্দর টিলা, ইপিজেড মোড়, সল্টগোলা ক্রসিং, অলংকার মোড়, একে খান গেইট, কর্ণেল হাট, জিইসি মোড়, অক্সিজেন মোড়, শেরশাহ কলোনি, বালুচড়া, কাপ্তাই রাস্মার মাথা, মোহর কামাল বাজার, বহদ্দারহাট মোড়সহ নগরীর ব্যাপক জনসমাগম এলাকাগুলোতে ক্ষদ্র ব্যবসা করে লাখো মানুষ জীবিক নির্বাহ করতেন।