লকডাউন ভেঙ্গে খাবারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এলো দিনমজুররা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩০

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গাইবান্ধায় লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শনিবার খাবারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে দিনমজুররা। শনিবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় দুপুর ১টা পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম পিয়ারাপুর ফাঁরাজ খাঁর বাজার এলাকায় বোয়ালী-পিয়ারাপুর সড়কে দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষ খাবারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। এসময় বোয়ালী ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বরদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন সরকারের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত এসব মানুষ। 

তারা বলেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতংকে বেশ কিছু দিন থেকে দেশের সবকিছু বন্ধ। তাই শহর ও বন্দরে কোন কাজ নেই। গ্রামেও কাজ নেই। ঘরবন্দি হয়ে বসে আছি। ধার দেনা করে চলতেছি। এখন আর কেউ ধারও দেয় না। 

অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন সহায়তা পেতে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া মেলেনা কোন সরকারি সহায়তা। এ কারণে দেশের এই সংকট মুহূর্তেও তারা ঘরবন্দি থেকেও কোন খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। তাই সরকারি খাদ্য সহায়তা পেতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খাবার বিতরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তার ধারে মারা গেলেন জ্বরে আক্রান্ত দিনমজুর

স্থানীয় সমাজসেবক নাজমুল হক খান টিমু বলেন, গ্রামের এসব দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের একদিন কাজ বন্ধ থাকলে তাদের চুলোয় হাড়ি ওঠে না। গত দুই সপ্তাহ ধরে তাদের কাজ বন্ধ হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই দ্রুত এসব কর্মহীন দিনমজুরদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো দরকার।

তবে বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মাজেদ উদ্দিন খান জানান, তার ইউনিয়নে ১২ হাজার পরিবারের জন্য খানা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য ৩ হাজার স্বচ্ছ পরিবার জন্য এবং অবশিষ্ট ৯ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার জন্য।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও’র) দপ্তর থেকে এ পর্যন্ত ৪০০ জনের খাদ্য সহায়তা প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৮৫ জনকে দশ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৩১৫ জনকে শুধু মাত্র দশ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনিসুর রহমান বলেন, গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৮৬ মেট্রিকটন চাল, শিশু খাদ্য বাবদ ৩১ হাজার টাকাসহ মোট তিন লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্য ১৩টি ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ৭২ টন চাল ও দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার আলু, ডাল, তেল সহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা সাত হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। শিশু খাদ্য বিতরণ অব্যাহত আছে।

তিনি আরও জানান, শনিবার আরও ১৪ মেট্রিকটন চাল ও শিশু খাদ্য বাবদ ৩১ হাজার টাকাসহ ১ লাখ ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আজকের এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে এসব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। 

জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তা বাবদ এ পর্যন্ত ৭৯৫ মেট্রিকটন চাল ও শিশু খাদ্য বাবদ চার লাখ সহ ৩৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। এর মধ্য ৬৫৮ মেট্রিকটন চাল ও শিশু খাদ্যসহ ২৯ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কর্মহীন বঞ্চিত এসব পরিবারগুলোর মাঝে জরুরী ভিত্তিতে সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ