উপকার পাচ্ছে না ভোক্তারা
মুন্না রায়হান
বর্তমানে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রাজধানীর যেসব পয়েন্টে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে তাতে ভোক্তাদের কোনো উপকারে আসছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারণ, এখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মানুষের কোনো সমাগম নেই। সবাই এখন বাসা-বাড়িতে অবস্থান করছেন। সে কারণে টিসিবির ট্রাকগুলো যদি আবাসিক এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দেওয়া হয়, তাহলে ভোক্তারা সহজেই পণ্য কিনতে পারে ।
গতকাল শনিবার রাশেদ নামের এক জন ভোক্তা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, করোনা সংকটের এই টানা ছুটির মধ্যে কারস্বার্থে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে টিসিবির ডিলাররা খোলা ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করছে। কারণ এখন তো সব ধরনের অফিস বন্ধ। তাহলে কেন মতিঝিল, ফার্মগেটসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। তাহলে আমরা কীভাবে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে গিয়ে টিসিবির পণ্য কিনব। এরচেয়ে করোনা সংকটকালীন সময়ের জন্য বাণিজ্যিক পয়েন্টগুলোর পরিবর্তে যদি আবাসিক এলাকায় টিসিবি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করে তাহলে ভোক্তারা উপকৃত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, টিসিবির এক শ্রেণির অসত্ ডিলাররা ট্রাকের পণ্য অন্যত্র বিক্রি করে। অথচ স্বল্প আয়ের মানুষ যেন কম দামে পণ্য কিনতে পারে সেজন্য সরকার রাজধানীসহ সারাদেশে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির এ ব্যবস্থা করেছে। ঢাকায় ৫০টি ও চট্টগ্রামে ১৬টি স্থানে, বিভাগীয় শহরে ১০টি করে ও জেলা সদরে চারটি ট্রাকেসহ মোট ৩৫০টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারের এই সংস্থাটি বর্তমানে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করছে। রমজান শুরু হলে এসব পণ্যের সঙ্গে ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। এছাড়া রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এক জন ক্রেতা সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবে। প্রতি কেজি চিনি ও মসুর ডাল ৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে টিসিবি ন্যায্য মূল্যের পণ্য বিক্রয় নিয়ে কোনো অনিয়ম করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সম্প্রতি টিসিবির ন্যায্য মূল্যের পণ্য বিক্রয় নিয়ে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে মনিটরিং ব্যবস্থা। গত ৭ এপ্রিল টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনকে সংঘটিত অনিয়মের যে কোনো অভিযোগ টিসিবির প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের প্রচারমাধ্যমে কোনো অনিয়ম প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৯ জন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল ও দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আরো চার জনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
