স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বসবে সংসদের ৭ম অধিবেশন

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৭

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রোধে সরকার আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করলেও ১৮ এপ্রিল শনিবার বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশন বসবে। শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মহামারির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ৬ এপ্রিল এই অধিবেশন ডেকেছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই অধিবেশন আয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘এবারের অধিবেশনে সব এমপিকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমরা নিরুত্সাহিত করছি। এমনিতেই অনেক সদস্য বর্তমানে নিজ এলাকায় ত্রাণ বিতরণসহ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত রয়েছেন। শুধু যারা ঢাকায় ও আশপাশে রয়েছেন তাদের নিয়েই অধিবেশন বসবে। কোরাম পূর্ণ হবে—এমন প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য যোগ দেবেন।’

স্পিকার জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের অধিবেশনে এমপিদের আসনও পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে আসন ঠিক করা হবে। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনে যেন লোকজনের ভিড় না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। এজন্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যেন তাদের পিএস, এপিএস বা ব্যক্তিগত কোনো সহকারী না আসেন সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। দর্শক একেবারেই অ্যালাউ করা হচ্ছে না।

শিরীন শারমিন আরো জানান, অধিবেশন চালানোর জন্য যে কয় জনকে না হলেই নয়—ঠিক ততসংখ্যক লোকজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এজন্য এবার সরকারি কর্মকর্তাদেরও সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত থাকবেন না। গণপূর্তেরও শুধু অপরিহার্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। সাউন্ড সিস্টেম ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও উপস্থিতি সীমিত করা হবে।

আসন্ন এই অধিবেশনের মেয়াদ সম্পর্কে স্পিকার জানান, খুবই সংক্ষিপ্ত হবে অধিবেশন। তবে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভবত এক কার্যদিবসের মধ্য দিয়েই ১৮ এপ্রিল অধিবেশন শেষ হয়ে যাবে। অথবা দীর্ঘ বিরতি দিয়ে মূলতবি করা হবে। এছাড়া ১৮ এপ্রিল অধিবেশন বসলেও চলতি সংসদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুতে তার ওপর আলোচনা শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী ওইদিন অধিবেশন এমনিতেই মূলতবি করা হবে। তবে অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণ হবে অধিবেশন বসার আগে অনুষ্ঠেয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।

প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকতে হয়। একাদশ সংসদের সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসার কথা ছিল গত ২২ মার্চ। করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে সেই অধিবেশন বাতিল করা হয়।