করোনায় আক্রান্ত কনস্টেবল, মুকসুদপুর থানার ৬৬ পুলিশ কোয়ারেন্টাইনে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:১৮

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার এক পুলিশ কনস্টেবল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ওই থানায় কর্মরত ৬৬ জন পুলিশ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ওই থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার নিজের বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন। এছাড়া ২৯ জন এসআই ও এএসআই এবং ৩৭ জন কনস্টেবল সরকারি মুকসুদপুর ডিগ্রি কলেজে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। শনিবার মুকসুদপুর থানার সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি তদারকি করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসলাম খান।

মুকসুদপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান জানান, থানায় কর্মরত এক কনস্টেবল গত ১ এপ্রিল সর্দি, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হন। গত ৬ এপ্রিল ছুটি নিয়ে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের বীরবাসাইল কলাবাগান গ্রামের নিজ বাড়িতে যান। মানিকগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ রিপোর্ট হাতে পেয়ে ওই কনস্টেবল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে। শুক্রবার রাত থেকেই মুকসুদপুর থানায় কর্মরত ৬৬ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, থানা সচল রাখতে ইতিমধ্যে অন্য থানা থেকে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল যোগদান করেছেন। সদ্য যোগদানকৃতরাই থানা চালবেন। গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, ওই থানার সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছি। পর্যায়ক্রমে সবার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হবে।

বকশীগঞ্জে নার্স-বাবুর্চি আক্রান্ত

অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সিনিয়র নার্স করোনা ভাইরাস আক্রান্তের তিন দিন পর একই হাসপাতালের এক বাবুর্চি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী।

ডা. প্রতাপ নন্দী জানান, ৯ এপ্রিল ওই বাবুর্চির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর বাবুর্চির দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্তের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে তার সরকারি বাসভবনটি লকডাউন করা হয়েছে। ওই ভবনে বসবাসরত সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে।

প্রতিবেদন দুটি পাঠিয়েছেন মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) এবং বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা