ভারতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে লকডাউন জারি করায় দেশটির লাখ লাখ পথশিশু এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছে। এদের অনেকেই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
ভারতে শিশুর সংখ্যা ৪৭ কোটি ২০ লাখ। শিশুদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, এই লকডাউনে গরীব পরিবারগুলোর প্রায় ৪ কোটি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব শিশুর মধ্যে রয়েছে যারা গ্রাম এলাকায় খেতেখামারে কাজ করে, কিংবা যারা শহরে আবর্জনা থেকে জিনিস টোকায় এবং ট্রাফিক সিগনালে বেলুন, কলম বা অন্যান্য টুকিটাকি জিনিস বিক্রি করে দিন চালায়। দিল্লিভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থার পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তা বলেছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরে বাস করা লাখ লাখ গৃহহীন শিশু, যারা ফুটপাতে, ফ্লাইওভারের নিচে, সরু গলি বা রাস্তায় ঘুমায়। লকডাউনে সবাইকে ঘরের ভেতর থাকতে বলা হয়েছে; কিন্তু এই পথশিশুদের কী হবে? তারা কোথায় যাবে?’
অনেক শিশু বলেছে, তাদের বাবা-মা কীভাবে কাজ হারিয়েছে, তাদের কোনো আয় নেই, রেশন তোলার অর্থ নেই। এরকম এক শিশু বলেছে, ‘মাঝেমধ্যে লোক আসে, খাবার বিলি করে। আমি জানি না ওরা কে; কিন্তু খুব কম খাবার পাই। দুই-তিন দিন আমরা একবেলা খেতে পাই।’ শিশুটি জানিয়েছে, লকডাউনের কারণে তারা পানি বা আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠ আনতে যেতে পারে না। ও বলেছে, ‘এভাবে কী করে আমরা বাঁচব জানি না। সরকারের উচিত আমাদের সাহায্য করা।’
কর্তৃপক্ষ বলছে তারা সাহায্য দিচ্ছে। শিশু অধিকার বিষয়ক দিল্লি কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস পথশিশু এবং দুস্থ ও যাদের সাহায্য দরকার—এমন পরিবারগুলোর জন্য রাজধানীতে খাদ্য বিতরণ করছে। অন্য অনেক শহরেও স্থানীয় সরকার এবং দাতব্য সংস্থাগুলো পথশিশু ও গৃহহীনদের জন্য খাবার বিতরণ করছে। তবে এই উদ্যোগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভারতের এক শিশু অধিকার কর্মী দাবি করেছেন, যেহেতু দেশে পুরোপুরি লকডাউন চলছে, সরকারের উচিত বাচ্চাদের দিনে তিনবেলা খাওয়া নিশ্চিত করা। খবর বিবিসি বাংলার
