দেবিদ্বারে করোনায় আক্রান্ত হওয়া ব্যবসায়ীর নারায়ণগঞ্জে মৃত্যু, ৮ বাড়ি লকডাউন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ১০:১৯

কুমিল্লার দেবিদ্বারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন কৃষ্ণ সাহা (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর নারায়ণগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। শনিবার ঢাকার আইইডিসিআর থেকে ওই ব্যবসায়ীর করোনার পজেটিভ ফলাফল আসার পরই তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়। 

শনিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত ওই ব্যবসায়ী উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ এলাকার মৃত মনমোহন সাহার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি সুতার ফ্যাক্টরি থেকে বিভিন্ন কোম্পানিতে সুতা সরবরাহের ব্যবসা করতো। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় জীবন কৃষ্ণ দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

তবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে একটি সিএনজি করে জীবন কৃষ্ণ সাহা তার স্ত্রীকে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। তবে তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থার নেয়ার পরও  তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে এ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে ঢাকায় চলে যান।

জীবন কৃষ্ণের স্ত্রীর বড় ভাই তপন সাহা জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে জীবন সাহা গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বারে আসে। চলতি মাসের শুরুতেই সে জ্বর-ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর গত বৃস্পতিবার সকালে তাকে পরিবারের লোকজন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু রাতে অবস্থার অবনতি হলে তার বোন (মৃতের স্ত্রী) তাকে একটি প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রোগীকে এ্যাম্বুলেন্সে রেখেই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে সেখানে ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়ে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা পজিটিভ রোগী ছাড়া রোগী ভর্তি না করার কথা জানালে ওইদিন রাতে তাকে নারায়নগঞ্জের টানবাজার এলাকা মেয়ের ভাড়া বাসায় নেয়া হয়। পরে শুক্রবার ভোরে তিনি সেখানে মারা যান। শুক্রবার দুপুরে তাকে নারাণগঞ্জে দাহ করা হয়।

তপন সাহা আরও জানান, ‘করোনা আক্রান্ত হলে রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে কতোটা হয়রানীর শিকার হতে হয় তা জীবন সাহার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই প্রমানিত হয়েছে। এতোটি হাসপাতাল ঘুরেও সে বিনা চিকিৎসায় মারা গেল, অসহায় হয়ে গেল ৩ কন্যা সন্তান ও স্ত্রী রেখে যাওয়া একটি পরিবার।’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও  পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর জানান, গত বৃস্পতিবার জীবন কৃষ্ণ সাহার করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে শনিবার তার নমুনা রিপোর্ট হাতে পাই। রিপোর্টে করোনা পজিটিভ উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, জীবন কৃষ্ণ সাহার বাড়ি তালা পাওয়া যায়। তার বাড়িসহ আশপাশের মোট ৮টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত  তার বাড়ি ও ওই এলাকার ৮টি বাড়ি লকডাউনের আওতায় থাকবে। প্রসঙ্গত, এ প্রথম দেবিদ্বারে কোন ব্যক্তির  করোনায় পজিটিভ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলো।

ইত্তেফাক/আরকেজি