করোনায় ব্যবসায়ীর মায়ের মৃত্যুর পর এবার বোনের পজেটিভ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ১০:২৪

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের জিয়াপুর গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার মায়ের মৃত্যুর পর এবার তার বোন নারগিছ আক্তারের (৫০) করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই ব্যবসায়ীর দুই শিশু সন্তানেরও করোনা পজেটিভ ফল আসে।

এ নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর পরিবারে ৩ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। এছাড়া দেবিদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ গ্রামের এক ব্যবসায়ী ও তিতাস উপজেলার মৌটুপি গ্রামের এক কুস্তিগীর আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে দেবিদ্বারের নবীয়াবাদের ব্যক্তি শনিবার নারায়ণগঞ্জে মারা গেছেন। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান। এনিয়ে শনিবার পর্যন্ত করোনায় কুমিল্লার ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডা. মো. মীর হোসেন মিঠু শনিবার সাংবাদিকদের জানান, ‘উপজেলার জিয়াপুর গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। সেখানে তার মায়ের করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাকে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃতের শরীর থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষায় করোনার পজেটিভ ফল এসেছিল। এর পর দিন ব্যবসায়ী মোস্তফা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি জিয়াপুরে চলে আসেন। এ খবর পেয়ে ওই ব্যবসায়ী ও তার ভাইয়ের ২টি বাড়ি লকডাউনসহ পরিবারের সদস্যদের দেহ হতে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ প্রেরণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ওই ব্যবসায়ীর ৪ বছর ও ৭ বছরের ছেলে (মৃতের নাতি) এবং শনিবার তার বোনের (মৃতের মেয়ে) করোনা পজেটিভ ফল পাওয়া যায়।’ ডা. মীর হোসেন মিঠু সাংবাদিকদের আরো জানান, ‘করোনা পজেটিভ আসা ওই ব্যবসায়ীর ২ ছেলে ও বোনের চিকিৎসা তাদের লকডাউন করা বাড়িতে চলছে। পরবর্তীতে আরও ২ দফায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করার পর রিপোর্টের পরবর্তী ফলাফল অনুসারে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ২টি বাড়ির লকডাউন বহাল থাকবে।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার তিতাস উপজেলার বিরামকান্দি গ্রামের এক ব্যক্তি (৪৮) করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি ঢাকায় চাল কলে কাজ করতেন। তার স্ত্রী পাশের গ্রামের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়ায় প্রশাসন বিরামকান্দিসহ চারটি গ্রাম লকডাউন করে। শনিবার তিতাসের মৌটুপি গ্রামের এক কুস্তিগীর (৩৫) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া জেলার দেবিদ্বার উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামের এক ব্যবসায়ী জীবন কৃষ্ণ সাহা (৫৫) করোনা পজিটিভ হয়ে নারায়ণগঞ্জে মারা যান। তিনি ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেবিদ্বারের নিজ বাড়িতে চারদিন অবস্থান করেন। গত বৃহস্পতিবার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। ঐ দিন বিকালে স্বাস্থ্যের অবনতির হলে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। তিনি ঢাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে শনিবার সকালে তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পথে মারা যান। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমেদ কবির জানান, গত ৯ এপ্রিল জীবন কৃষ্ণ সাহার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। একই দিন তিনি নারায়ণগঞ্জে মারা যান।

ইত্তেফাক/আরকেজি