বরগুনায় তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন দুজন আর তাবলিগ জামাত থেকে ফিরে আসা একজন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতরা হচ্ছেন- জেলার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জিএম দেরওয়ার হোসেন এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বামনা উপজেলার গোলাঘাটা গ্রামের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী (৬০)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত ৯ এপ্রিল বরগুনা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন তাবলীগ জামাত ফেরত এক ব্যক্তি। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এতে ওই ব্যক্তিকে করোনা পজিটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়। তাকে বরগুনা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তাবলীগ জামাত ফেরত ওই ব্যক্তি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি আছেন। আমরা তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা ছিলেন তাদের বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আক্রান্ত এই ব্যক্তি তাবলীগ জামাত থেকে ফিরেছেন। তার সংস্পর্শে যারা ছিলেন তাদেরকে খুঁজে বের করে আমরা কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও ওই ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে বরগুনায় প্রথম করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম দেলওয়ার হোসেন। গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
অপর দিকে জেলার বামনা উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। গত পাঁচদিন ধরে ওই ব্যক্তি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি উপজেলার রামনা ইউনিয়নের গোলাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত পাঁচদিন ধরে তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তবে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি নিয়মিত ওষুধের দোকানে বসতেন।
বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়ি লকডাউন রাখা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান, পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মীরা লকডাউন যথানিয়মে পালন হয় কিনা তা দেখাশোনা করবেন।
এদিকে করোনায় মারা যাওয়া জিএম দেলওয়ার হোসেনের সংস্পর্শে আসায় ৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী, মেডিকেল কর্মকর্তা ইমদাদুল হক চৌধুরী এবং চিকিৎসক তানজিরুল ইসলামসহ হাসপাতালের ক্যাশিয়ার শহিদুল ইসলাম হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
জিএম দেলোয়ারকে বিভিন্ন সময় সেবা দেয়া ও সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন হুমায়ুন শাহিন খান বলেন, শনিবার (১১-৪-২০) সকালে জিএম দেলোয়ারের স্ত্রী-সন্তান ও তার সং¯পর্শে আসা ৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে এই পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি হয়েছেন স্থানীয় এমন পরিবারের সদস্যদেরও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা জিএম দেলওয়ার হোসেন অসুস্থ থাকাকালীন তার আশপাশের শতাধিক বাড়ির মানুষ তাকে দেখতে এসেছেন। সেসব পরিবারের সদস্যরা এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৯-৪-২০) আমতলী সদর ইউনিয়নের লোচা গ্রামের বাড়িতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান জিএম দেলোয়ার। এর আগে আটদিন ধরে তিনি জ্বরসহ করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন।
জিএম দেলোয়ারের মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের ঘোষিত লগডাউন ভেঙে সেখানে জড়ো হন শত শত স্বজন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী। শুক্রবার (১০-৪-২০) বিকেল ৫টায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তার জানাযায় অংশ নেয় কয়েক হাজার মানুষ। ওই দিনই জানা যায় করোনায় মারা গেছেন জিএম দেলওয়ার হোসেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
