মানসিক শক্তি বাঁচাবে করোনা থেকে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ২০:৪৮

প্রজ্ঞা আহম্মদ জ্যোতি

হঠাত্ করে আমাদের জীবনটা কেমন জানি বদলে গেল। মাসখানেক আগেও সকাল হয়েছিল পড়ালেখা ও কর্মব্যস্ততা নিয়ে। অপেক্ষায় থাকতাম কখন সপ্তাহ ঘুরে শুক্রবার আসবে। প্রতিদিন ক্লাস এবং একঘেয়েমি ব্যস্ত জীবন ভালো লাগতো না। ২০২০ এর ক্যালেন্ডার নিয়েও ছিল মন খারাপ এবার অনেক দিবসের এবং উত্সবের ছুটিও ছিল শুক্রবারে। এই ধরুন না এবার শবেবরাতের ছুটিটাও পাওয়ার কথা ছিল শুক্রবারে। ধুম করে জীবনটা সাইন্স ফিকশন সিনেমার মতো বদলে গেল করোনার ছোবলে সমস্ত পৃথিবী বন্দি। এই বন্দিত্ব সাময়িক না বেশ কিছু সময় আমাদের থেকে নিয়েছে এবং নিবে। আমার এখন সারা দিন যায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, একগাদা ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমা দেখে। প্রথম দিকে ইতালির লকডাউনে বন্দি মানুষগুলো মানসিক চাপ থেকে নিজেকে এবং অন্যকে দূরে রাখার জন্য বারান্দা কিংবা ছাদে বসে গিটার বাজাত, চিত্কার করে গান গাইত। কিন্তু ঐদিন একটা প্রতিবেদনে পড়লাম তারা তবুও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। বাড়ছে মৃত্যু। পৃথিবী জুড়ে করোনার ফলে বাড়ছে সংসার ভাঙার সংখ্যা। করোনা প্রভাব ফেলছে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে উঠাতে।

আমাদের দেশের অবস্থাও তেমন ভালো না। প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যদি একটু বেশি সচেতন হতাম হয়তো পরিস্থিতি এমন হতো না। আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত দেশের নাগরিক। প্রাচুর্য আমাদের এখনো দেখা হয়নি। করোনার মহামারি আকার ধারণ করার আগেই অভাবের তাড়না সহ্য করতে না পেরে আমাদের দেশে আত্মহত্যার কথা কানে আসছে।

তাই শুধু নিজে না সবাইকে বাঁচাতেই আমাদের এক মুহূর্ত বিলম্ব না সচেতন হবে। আমাদের মনে বল রাখতে হবে বাঁচতে হবে নতুন পৃথিবী দেখতে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে তা শারীরিকভাবেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। করোনার সঙ্গে লড়তে অবশ্যই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লাগবে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে আপনার এটি কমে যাবে এবং অসাধু মানুষের গুজবগুলো তখনই আপনার মাথায় বেশি আক্রমণ করবে যখন আপনি মানসিকভাবে দুর্বল থাকবেন। মানসিকভাবে দুর্বল থাকলে আপনার পাশের মানুষজনেরও তার প্রভাব পড়বে। আপনি যদি ভয় পান এতে লাভের কিছু হবে না বরং ক্ষতির পরিসীমাই বাড়বে। তাই এই অবস্থায় ভয় নয় লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে সচেতন হতে হবে কঠোরভাবে। ভয়কে কাটতে হবে ভেংচি। কখনো ভেবেছিলেন পরিবারকে এত সময় দিতে পারবেন? নিজেকে একটু সময় দিতে পারবেন? আসুন আমরা এই সামান্য লাভগুলো নিয়ে হলেও করোনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সচেতন হই। প্রতিটি দিন ঘরের ভেতর হোক ফ্যামিলি পার্টি। সময়ের অভাবে পরে থাকা প্রিয় বই এবং সিনেমাসমূহ দেখে শেষ করার এই তো সময়।  এতে আমি এবং আমার পাশের সকল মানুষেরও লাভ হবে। করোনার পর পৃথিবীর অনেক কিছুই বদলে যাবে। অর্থনীতি, ক্ষমতা সব। আমাদের সব নতুন করে গোছাতে হবে। তাই সেসময়ের জন্যও আমাদের মানসিক বল জমিয়ে রাখা প্রয়োজন। অর্থাত্ মানসিক বল আপনাকে করোনার সঙ্গে লড়তেও সহযোগিতা করবে ভবিষ্যতে কঠিন অবস্থার সঙ্গেও লড়তে সহযোগিতা করতে। এবার পহেলা বৈশাখে আমাদের প্রাণের উত্সব হবে না। অনেক উত্সব থেকেই আমরা বঞ্চিত হব। কিন্তু আশাকরি পরের বার সকল কিছু বয়ে আনবে নব আনন্দের স্রোত। এর জন্য শুধুই প্রয়োজন প্রচণ্ড মানসিক শক্তি বা বল।

n লেখক :শিক্ষার্থী, চতুর্থ বর্ষ, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়