পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির সর্বজনীন প্রাণের উত্সব। গ্রাম ও শহরে ‘নববর্ষ’ নামে লোকমুখে পরিচিত। ১৯৬৭ সাল থেকে ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা বা কুস্তিখেলা হয়ে থাকে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘির পাড়ে উত্সবমুখর পরিবেশে জব্বারের বলিখেলা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে সবাই এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে। ব্যবসায়ীরা দিনটি হালখাতা হিসাবে পালন করে থাকে। কিন্তু এবারের বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে থমকে গেছে। এই দিনে কামনা—পৃথিবী করোনামুক্ত হোক। বাংলা নববর্ষে করোনামুক্ত সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিময় বাংলাদেশ কামনা করি। রবীন্দ্রনাথের গানে গলা মিলিয়ে বলি—‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো/তাপস নিশ্বাস বায়ে/মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,/বত্সরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক/পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,/অশ্রুবাষপ সদূরে মিলাক।/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’
শ্রীধর দত্ত
মেলঘর, পটিয়া, চট্টগ্রাম
