গোপালগঞ্জে মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে সংঘর্ষ, যুবক নিহত

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৬

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুজন শেখ (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার/পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের বাহাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনকে মুকসুদপুর ও একজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিত্সা গ্রহণ করেছেন। নিহত সুজন শেখ বাহাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে।

কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর সার্কেলের এএসপি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মসজিদে পাঁচ জনের বেশি নামাজ পড়া যাবে না বলে গ্রামের বিবদমান দুই গ্রুপ রবিবার রাতে এশার নামাজের সময় তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে ফজরের নামাজের পর দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। 

মুকসুদপুর থানার ওসি মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাহাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের  কেরামত মুন্সির সঙ্গে ইলিয়াস মাতব্বরের বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি একটি বিরোধপূর্ণ জায়গায় কেরামত মুন্সির লোকজন ঘর তোলে। এতে ইলিয়াসের লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। রবিবার রাতে এশার নামাজে গ্রামের মসজিদে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে। কেরামত মুন্সির সমর্থক নিহত সুজনের বাবা মজিবর শেখ মসজিদের মধ্যে পাঁচ জনের বেশি নামাজ পড়া যাবে না বলে প্রতিপক্ষ ইলিয়াসের লোকজনের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফজরের নামাজের পর দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।