ত্রাণের তালিকা দেয়ায় যুবককে আটকে রেখে মারধর চেয়ারম্যানের

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ২৩:৩৪

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন এলাকায় করোনার প্রভাবে অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের জন্য ত্রাণের তালিকা তৈরি করায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কর্তৃক আশেকে এলাহী নামে এক যুবককে আটকে রেখে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য সোমবার ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিব হাসান।

ইউএনও কার্যালয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনার কারণে অভাবগ্রস্ত ৭৯ জনের একটি তালিকা করে তাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নের মাশিকাড়া গ্রামের মো. আশেকে এলাহী নামের এক যুবক ওই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাকিম খানের কার্যালয়ে জমা দেন। এতে চেয়ারম্যানের তোপের মুখে পড়েন ওই যুবক।

গত শনিবার চেয়ারম্যানের নির্দেশে চারজন চৌকিদার ওই যুবককে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যায় এবং একটি কক্ষে আটকে রেখে ওই যুবককে মারধরসহ অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করা হয়। পরে ওই যুবক বন্দিদশা থেকে বের হয়ে রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তার উপর নির্যাতন ও পুরো ঘটনার বর্ণনা করে কয়েকটি ভিডিও ব্যক্তিগত ফেসবুকে পোস্ট করেন। তার এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ তোলপাড় শুরু হয়। তবে চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম খান এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

সোমবার বিকালে দেবিদ্বারের ইউএনও রাকিব হাসান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু তাহেরকে আহবায়ক এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মাওলা ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম রহমানকে সদস্য করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্য প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু তাহের জানান, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউএনও মহোদয়ের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর