‘আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:১৫

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় জেলার ঘিওর উপজেলার বাসিন্দা দরিদ্র শ্রমিক জুরান আলীকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বড়টিয়া ইউপির কলিয়া গ্রামের মৃত বেজেরন দেওয়ানের ছেলে জুরান আলী পেশায় একজন মাটি কাটার শ্রমিক। একটি ভাঙাচোরা ছাপড়া ঘরে ছিল তার বসবাস। স্ত্রী, দুই মেয়ে, চার ছেলে নিয়ে গাদাগাদি করে ছাপড়া ঘরে অনেক কষ্টে কাটতো তার দিন। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চালাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে।

জুরান আলী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই করে দিয়েছেন। অভাবের সংসারে আমি কখনো কল্পনাও করিনি, আমার ভাগ্যে এত সুন্দর একটি ঘর জুটবে। আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখন ভালোভাবে বসবাস করছি। আল্লাহ যেন ওনাকে (প্রধানমন্ত্রী) বহু বছর বাঁচিয়ে রাখেন।’ তার স্ত্রী মজিরন বেগমও নিজের সন্তুষ্টির কথা জানালেন।

জুরান আলীর মত বালিয়াখোড়া ইউপির কোশুন্ডা গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র শীলও একটি ঘর পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সেলুনে কাজ করি। আমার আয় দিয়ে সংসারই চলে না ঠিকমত, ঘর বানাব কি করে? বর্তমান সরকার থেকে বাড়িটি পাওয়ায় খুব সুবিধা হয়েছে। এত সুন্দর ঘরের স্বপ্ন কখনো দেখিনি। নিশ্চিন্তে এই ঘরে এখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুমাতে পারছি।”

২০১৭- ১৮ অর্থবছরে ‘যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’- প্রকল্পের আওতায় ঘিওরের ৬টি ইউনিয়নে মোট ১৫২টি ঘর দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী ইসতিয়াক হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও শামীমা খন্দকার বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৮০ থেকে ৯০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ঘরগুলো নির্মাণের কাজ চলছে। যারা ঘরগুলো পেয়েছে তারা একেবারেই হতদরিদ্র। তারা এক সময় ছাপড়া ঘরে বসবাস করতো। বর্তমানে তারা অনেকটাই ভালোভাবে বসবাস করছে। পর্যায়ক্রমে ঘিওরে এক হাজার পরিবারের জন্য এ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।