বস্তির দরিদ্র মানুষের জন্য গ্রামীণ শিক্ষার জরুরি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৫৩

গ্রামীণ পরিবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শিক্ষা গত দুই দশক যাবত দরিদ্র, সুবিধা-বঞ্চিত মানুষ বিশেষ করে ছাত্র ও শিশুদের জন্য ছাত্রবৃত্তি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি, অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মসূচি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি, কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা কর্মসূচি ইত্যাদি পরিচালনা করে আসছে। গ্রামীণ শিক্ষার এসব কর্মসূচি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩.৬ লক্ষ দরিদ্র মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে।

গ্রামীণ শিক্ষার কর্মসূচিসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত মিরপুর ১০, ১১, ১২, ও ১৩ নং সেকশন এলাকায় পরিচালিত অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় বা বস্তি স্কুল। এসব এলাকায় গ্রামীণ শিক্ষা ৩৯টি বস্তি স্কুল পরিচালনা করছে যেখানে বস্তির প্রায় ১,৫০০ দরিদ্র শিশু পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করছে। এসব শিশুদের একটি অংশ পিতৃহীন, কেউ কেউ পিতৃ-মাতৃহীন, এবং প্রায় সকলেরই অভিভাবক গৃহপরিচারিকা, দিনমজুর, ভ্যানচালক, হকার, কারচুপি শ্রমিক ইত্যাদি পেশায় নিয়োজিত।

সম্প্রতি কোভিড-১৯ উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে এই দরিদ্র পরিবারগুলোর অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। পরিবারের উপার্জনকারীদের অনেকেরই কাজ-কর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরা খাদ্যাভাবে ভুগছে। গ্রামীণ শিক্ষা এরকম ১৬৩টি পরিবার (৮১৫ জন সদস্য) চিহ্নিত করে এদেরকে তিন মাস ব্যাপী খাদ্য সরবরাহের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং প্রতিটি পরিবারকে সপ্তাহে ৭ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ৫ কেজি আলু ও একটি করে সাবান সরবরাহ শুরু করেছে।

গ্রামীণ শিক্ষার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজস্ব উদ্যোগে এই জরুরী খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি আরম্ভ করার পর গ্রামীণ পরিবারেরই অন্যতম প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণ এই কর্মসূচিতে অর্থায়ন করতে এগিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য যে, মিরপুর বস্তি এলাকা ছাড়াও গ্রামীণ শিক্ষা সিংগাইরে গ্রামীণ শিক্ষার প্রি-স্কুল কর্মসূচি এলাকায় ৪৯ জন এতিম ও হতদরিদ্র শিশু ও নারী-পুরুষকে তিন মাসের জন্য জরুরীভাবে খাদ্য সরবরাহ করছে।

আরো উল্লেখ্য যে, গ্রামীণ শিক্ষা কোনো অনুষ্ঠান করে এই খাদ্য বিতরণ করছে না; উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি এসব খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ