করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না’গঞ্জের হাসপাতাল-ক্লিনিক

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ২৩:২৯

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

কর্মীদের একটি অংশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে যেগুলো চালু রয়েছে সেগুলোও বন্ধের পথে বলে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সবশেষ পাওয়া তথ্যমতে, শহরে প্রায় ৪২টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা (হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সম্প্রতি সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্যমতে, সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সদর জেনারেল হাসপাতালের একজন ডাক্তার, একজন নার্স, একজন ওয়ার্ড বয়, একজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের একজন মেডিসিন বিভাগের চিকিত্সক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, হাসপাতালের আরো ১০ থেকে ১৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে। শহরের একটি ক্লিনিকের মালিক ও বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ডা. শাহনেয়াজসহ শহরের অনেকগুলো ক্লিনিক হাসপাতালের চিকিত্সক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তারা এখন চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় কিছুটা স্থবিরতা চলে এসেছে জেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে। শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন ডাক্তার, অপর একটি ক্লিনিকের ওটিবয় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুয়েত মৈত্রীতে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এ ক্লিনিকের আরো চার জন কর্মীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে করোনা টেস্টের জন্য। শহরের ডিআইটি এলাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন করোনা পজিটিভ হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলায় চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অপর একটি জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার ইতিমধ্যেই আইসোলেশনে রয়েছেন। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল কর্মী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এ ছাড়া আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরও একই অবস্থা। এসব কারণে ইতিমধ্যেই এই ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কয়েকটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত তারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট করতে গিয়ে এবং তাদের নানাভাবে চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই রোগ গোপন করে চিকিত্সাসেবা নিতে এসে এ বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেন তাদেরকে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ও ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শাহীন মজুমদার জানান, আমাদের এখানে ৪২টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার মধ্যে প্রায় ১০টি ইতিমধ্যে লকডাউন হয়ে গেছে। এদের কর্মীরা কয়েক জন করোনায় আক্রান্ত আবার কয়েক জন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আমরা তো খোলা রাখতে চাচ্ছি কিন্তু কর্মীরা যদি আক্রান্ত হয়ে পড়ে এভাবে তাহলে তো আমাদের পক্ষেও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ করে আমরা দ্রুত সবগুলো ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলতে চেষ্টা করব, এজন্য সংশ্লিষ্টদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।