বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিল স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজের দেশের করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সামলানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচিত হলেও হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এককভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে সবচেয়ে বড়ো অঙ্কের অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে ৪০ কোটি ডলার যা ছিল সংস্থাটির বার্ষিক বাজেটের প্রায় ১৫ ভাগ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ সালে সেখানে চীনের অবদান ছিল ৭ দশমিক ৬ কোটি ডলার এবং স্বপ্রনোদিত অনুদান ১ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে মার্চ মাসে সাড়ে ৬৭ কোটি ডলারের আবেদন করেছে তারা এবং আরো ১০০ কোটি ডলারের আবেদন করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
চীনের উহানে যখন করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হয় তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংস্থাটি যদি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে চীনের পরিস্থিতি যাচাই করতো এবং চীনের অস্বচ্ছতা প্রকাশ করে দিতো, তাহলে প্রাদুর্ভাব উত্সতেই নিয়ন্ত্রণ করা যেতো, মৃত্যুও অনেক কম হতো। তা না করে হু চীনের সরকারের কার্যক্রমকে সমর্থন দিয়েছে।
বিশ্ব জুড়ে নিন্দা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন স্থগিত করার জন্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত দু:খজনক। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানের উন্নতিতে এবং ভয়ভীতি বা পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে বিশ্বের সকল জনগণের সেবায় এই সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়ন কমানোর সঠিক সময় নয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে চীন এবং জার্মানিও। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেছেন, মহামারির একটা দুর্যোগপূর্ণ সময়ে এই সিদ্ধান্ত এলো। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেছেন, দোষারোপ করা কোন কাজের কথা নয়। তিনি আরো বলেছেন, এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হল পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং টিকা উদ্ভাবন ও বিতরণ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘ এবং হুকে আরো শক্তিশালী করে তোলা।
ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বরেল বলেছেন এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি আরো বলেছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি থামানো এবং এর প্রতিকারে সহায়তার জন্য যখন তাদের আরো বেশি প্রয়াসের দরকার, তখন এরকম একটা মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কার্যকারণ দেবার কোন যুক্তি নেই। বিল গেটস গতকাল একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন এমন সংকটে ফান্ড দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভয়াবহ। বিল গেটস লেখেন, এই মুহুর্তে যদি কোনো সংস্থা ভাইরাসের বিপক্ষে লড়তে পারে তবে সেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
