এক দিনে ২ হাজারের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:৫১

বিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুতে এক দিনে রেকর্ড গড়লো যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে দুই হাজার ২শ’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও দেশটির সরকার ১৯ থেকে ২০ টি রাজ্যে আগামী মাস থেকে লকডাউন শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশ্ব জুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখ ৪৯ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ। সুস্থ হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজারের বেশি। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ২৪ ঘন্টার একটানা কারফিউ ঘোষণা করেছে সরকার। জাপানে পিপিই’র সংকট কাটাতে রেইনকোট দিতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়লেও ভারত এবং পাকিস্তানে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, চীন জানলেও ৬ দিন পর সতর্ক করেছে করোনা মহামারী নিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার এক দিনে অন্তত দুই হাজার ২২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক দিনে এ ভাইরাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে দেশটিতে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড তৈরি হয়েছিল গত শুক্রবার। সেদিন অন্তত দুই হাজার ৬৯ জনের মৃত্যু হয়। করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়ার্ল্ডো মিটারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ২২ হাজার ৪১২ ও মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৫৪৯ জনের। হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ডা. ডেবোরা ব্রিক্স সম্প্রতি আশঙ্কা জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এক লাখ মৃত্যু কিছুতেই এড়াতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা না হলে মৃতের সংখ্যা ২২ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি

জরুরি ব্যবস্থা না নিলে জাপানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওসাকা শহরের মেয়র শহরের বাসিন্দাদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেসব হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিই’র ঘাটতি আছে, তাদের সাহায্য করতে তারা যেন তাদের রেইনকোট দান করেন।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানার পরও সতর্ক করতে ৬ দিন দেরি করেছিল চীন। স্পেনে ২৭ হাজারেরও বেশি চিকিত্সা কর্মীর করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা। ব্রিটেনের ১০৬ বছর বয়সী কনি টিচেন কোভিড নাইনটিন থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। কোভিড-১৯ এ জার্মানিতে ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ২৮৫ জন। এতে মোট মৃত্যু ৩ হাজার ২৫৪ জন। মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি। মস্কোয় চলাফেরার ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডর্ন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এবং তার সরকারের অন্য মন্ত্রীরা আগামী ৬ মাস শতকরা ২০ ভাগ কম বেতন নেবেন।

আরব অঞ্চলের সাত কোটি ৪০ লাখ মানুষের কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হবার ঝুঁকি বেড়েছে। কারণ এসব এলাকায় পানির অভাবের কারণে মানুষের হাত ধোয়ার সুযোগ সীমিত বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। এসব এলাকায় ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের বাসায় পানি অভাব রয়েছে। ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো মৃতের দৈনিক সংখ্যা ছিল একশ’র নিচে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে মারা গেছে ৯৪ জন। ইরানে এই নিয়ে সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৭৭৭ জনের।

ভারতে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারা দেশে ১৭০টি জেলা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে করোনার নন-হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২০৭টি জেলা।  অন্যদিকে দেশে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১১ হাজার ৯৩৩। এর মধ্যে সুস্থ ১ হাজার ৩৪৩ জন। ৩৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের সময়। ৩ মে পর্যন্ত চলবে লকডাউন। তবে ২০ এপ্রিল থেকে খেত-খামার ও কৃষিকাজ শুরু হবে। একইভাবে পাকিস্তানেও কৃষিকাজ ও কিছু শিল্প কারখানা খুলে দেওয়া হবে।