কুড়িগ্রামের উলিপুরে খাদ্যের দাবিতে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে, রাস্তায় শুয়ে সড়ক অবরোধ করেছে কয়েকশ নারী-পুরুষ। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সরফদি গ্রামের মানুষজন উলিপুর-রাজারহাট সড়ক অবরোধ করে এ দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মেম্বাররা স্বজনপ্রীতি করছেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগামীতে সঠিক তালিকা অনুযায়ী ত্রাণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।
সরজমিন, উলিপুর-রাজারহাট সড়কের সরফদি গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে খাদ্যের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার রাস্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, পরপর তিন দফায় সরকারি খাদ্য বিতরণ করা হলেও অনেকেই এই সহায়তা পাননি। অবরোধে অংশ নেওয়া আবু মিয়া জানান, জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নিচ্ছেন না।
এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম রাজু এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে বলেন, ওই ওয়ার্ডের তিন গ্রামের প্রায় এক হাজার আটশ ভোটারের মধ্যে তিন দফায় প্রায় একশজনকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ওই এলাকার মানুষজনের জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই পাবেন।
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সী বলেন, তার এলাকায় কোনো অনাহারি মানুষ নাই। সমস্যা থাকতে পারে। সরকারি ঘোষণা ছিল, বাড়ি বাড়ি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কারনে, সবাই ত্রাণ চায়। অথচ যারা রাস্তায় নেমেছেন, তাদের কারো বয়স্কভাতার কার্ড আছে, প্রতিবন্ধী, ভিজিডিসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার কার্ড আছে।
তিনি আরো বলেন, ওই ওয়ার্ডের সরফদি কানি পাড়ায় সম্প্রতি আবু নামের একজন ঢাকা থেকে এসে মানুষজনকে উস্কে দিয়েছে। ৩৯ হাজার মানুষ এই ইউনিয়নে বসবাস করেন। ৩ দফায় সরকারিভাবে বরাদ্দের মাত্র ১০ মেট্রিক টন চাল ও এক মেট্রিক টন আলু, এক হাজার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, আগামী বরাদ্দে প্রকৃত লোকজনের নাম তালিকায় থাকবে এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
ইত্তেফাক/এসি
