কারও দুই মাস, কারও এক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া। করোনার কারণে বন্ধ কারখানা। জরুরি ত্রাণও পাননি তারা। তাই বাধ্য হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমেছেন পোশাক কারখানার কর্মীরা। করোনা মোকাবিলায় সরকার নির্দেশিত সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি উপেক্ষা করেই সড়কে অবস্থান করে আবারও বিক্ষোভ করেছেন এসব পোশাক শ্রমিক।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কমলাপুর, মিরপুর, দক্ষিণখান, বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় এদিনও পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
পুলিশ জানায়, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার দায় গার্মেন্টস মালিকদের এবং বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এখন পুলিশকে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গার্মেন্টস মালিকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। করোনায় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রমিকরা সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন।
গতকাল দুপুরে মিরপুর এলাকার রূপনগরের মনির ফ্যাশন গার্মেন্টের শতাধিক শ্রমিক প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এদিকে গতকাল সকাল ১১টার দিকে বকেয়া বেতন-ভাতা ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার দাবিতে বিমানবন্দর গোল চত্বর এলাকার সড়ক অবরোধ করেন উত্তরা দক্ষিণখান এলাকার রেদওয়ান, সিএনবি ও স্যার ডেনিম গার্মেন্টসের কর্মীরা।
সাভার, গাজীপুর ও সোনারগাঁওয়ে বিক্ষোভ
সাভার :সাভারে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গতকাল টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন সাভার আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ৮টা থেকে এ ওয়ান নিটওয়্যারের ৮ শতাধিক শ্রমিক গত তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। এছাড়া একই দাবিতে আশুলিয়ার আরো একাধিক কারখানায় এমন বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
গাজীপুর :গতকাল নগরীর তিন সড়ক এলাকায় স্টাইলক্র্যাফট, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ইলিবাট কিংসওয়্যার লিমিটেড কারখানা, নাওজোড় এলাকায় প্রোমোডিয়াল কারখানার পোশাক শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া কোনাবাড়ি, বোর্ড বাজার এলাকায়ও বকেয়ার দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) :বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক গতকাল অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন সোনারগাঁয়ের টিপরদী এলাকার ইউসান নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকরা।
