ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখে সুরুত আলীর মন কষ্টে ভরে গেল। যেদিকেই তাকায় ভরাট শূন্যতা। এদিকে দালালি করে যে সামান্য আয় করত তাও বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকার এমন দৃশ্য তার কল্পনাতেই আসে না। মৃত্যুর ভয়ে সেও আতঙ্কিত। ঘরে নেই খাবার। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুরত আলীর বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। কোকিলার জন্য—আহা কোকিলারে কতদিন দ্যাহি না। জীবনে কি আর কখনো দেখা হবে? পরক্ষণেই ফোন করে কোকিলাকে :
—ওরে কোকিলা, তুমি ক্যামুন আছো?
—এই অহন প্যাঁচাল রাহো। আমি টাট্টিখানাত যাইতাছি। ফরে ফোন দিয়ো।
—আচ্ছা বেশি আর্জেন অইলে যাও। কম আর্জেন অইলে দুইডা কতা হুনো।
—আরে বগরবগর রাহো অহন। খুব বেতাল অবস্থা।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সুরত আলী কোকিলার ফোন পায়।
—কও, কিতা কইবা।
—করোনা আইছে। মানুষ মনে অয় আর বাঁচতো না। অবশ্যই আমরার চিন্তা নাই। হুজুরে কইছে মুছুলমানের করোনা অইতো না। এইডা অইলো হুদাহুদির অসুখ।
—হুদাহুদি হিরেবার কী জিনিস?
—আহ, মাথাডা বেটিক অইয়া গেছে। হুদাহুদি না। ইহুদি।
—হ হুনছি। এই লাইগ্যা আমি থানকুইন্যার ফাতা খাইছিলাম কাইল। আর আইজ থাইক্যা খালি টাট্টিখানায় যাইতাছি। অবস্থা খুব খারাপ।
—হায় হায় কয় কী? থানকুইন্যার ফাতা খাইল্যা ক্যান?
—আরে মাইনসে কইলো থানকুইন্যার ফাতা খাইলে করোনা অইতো না। এই লাইগ্যা এক কেজির মতো খাইয়া অহন আমার মরণ দশা।
কোকিলা কান্নায় ভেঙে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমি মনে অয় বাছতাম নাগো। মরলে দাবিটাবি রাইখো না।
সুরত আলী মাথায় হাত দিয়ে রাস্তার পাশে বসে পড়ে। চারদিকে এত মৃত্যুর খবরেও সে কাতর না হলেও কোকিলার চিন্তায় তার শরীরটা ক্রমে অবশ হয়ে আসে। চোখ দুটি ঝাপসা হয়ে আসে। বিড়বিড় করে বলে, কোকিলা কোন সর্বনাশ করেছে কে জানে?
