পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বিলুপ্ত শালবাড়ি ছিটমহলের বাসিন্দা তোয়াছউদ্দিন। বয়স একশ পেরোলেও জীবনে কোনোদিন ভোট দেননি। ভোট কিভাবে দিতে হয় তাও জানেনও না। এবারই প্রথম ভোট তিনি দিবেন।
শুধু তোয়াছউদ্দিনই নয়, জীবনে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিবেন পঞ্চগড় জেলার দুটি আসনের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি। দেশের মূল ভুখণ্ডে যুক্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাওয়া এসব এলাকার নারী-পুরুষ সবার মধ্যেই বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। মূল ভুখণ্ডের নাগরিকদের মত তারাও নির্বাচনী উৎসবে মেতে উঠেছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে দলেবলে ভোট দিতে যাবেন। নতুন বাংলাদেশীদেরও রয়েছে নানা প্রত্যাশা।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পঞ্চগড় জেলার বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশিরা। ছিটমহলে বসবাসের ৬৮ বছর পর এবং বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভের ৩ বছর পর অর্থাৎ ৭১ বছর পর জীবনে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিবেন তারা। নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পর ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। তাই নতুন বাংলাদেশি ভোটারদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ছিটমহলগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
জানা গেছে, পঞ্চগড়-১ আসনের ৭টি ছিটমহলে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫২৭ জন এবং নারী ভোটার ৪৯৮ জন। পঞ্চগড়-২ আসনের ২৯টি ছিটমহলে ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ২২০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ২৭৫ জন এবং নারী ভোটার ২ হাজার ৯৪৫ জন।
একই ছিটমহলের শতবর্ষী আফছার উদ্দিনউদ্দিন বলেন, ‘৬৮ বছর ধরে বাংলাদেশি এলাকার নির্বাচনে ভোটের দৃশ্য দেখে আসছি। ভোট ব্যবস্থা চোখে দেখেছি। কিন্তু আমরা ভোট দিতে পারিনি। সরকার আমাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। কষ্ট হলেও ভোট দিতে যাবো। এবার ভোট দিবো।’
শালবাড়ি ছিটমহলের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে দেশও ছিল না, ভোটাধিকারও ছিল না। নাগরিকত্ব পেলাম, শেষ বয়সে এসে ভোটার হলাম। ছিটমহলে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। দলবদ্ধভাবে এবার আমরা প্রথমবার ভোট দিব। ৭১ বছর পর ভোট দিতে পারবো খুব ভালো লাগছে।’
আরো পড়ুন : সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন শেখ হাসিনা
পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার হাড়িভাসা ও হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিক লুৎফর রহমান (৮৫), মোশাররফ হোসেন (৯২), রহিমা বেগম (৭৫) বলেন, ‘আমরা ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে দিন গুনছি। শেষ বয়সে প্রথমবার ভোট দিতে যাবো আনন্দ লাগছে।’
পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘পঞ্চগড়-১ আসনে ৭টি এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ২৯টি ছিটমহল রয়েছে। দুটি আসনের এসব ছিটমহলে মোট ভোটার ৮ হাজার ৯৩৫ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬৭৪ জন এবং নারী ভোটার ৪ হাজার ২৬১ জন।’
১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আলোকে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পঞ্চগড়ের মুল ভূখণ্ডে যোগ হয় বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
ইত্তেফাক/ইউবি
