করোনা ঝুঁকি: ছুটির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চা শ্রমিকদের লিখিত আবেদন

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২০:০৭

করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপত্তা রক্ষায় যখন সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে, তখন চা বাগানে এসবের কোন নিয়ম কানুন ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। চা বাগানের শ্রমিকরা সাময়িক ছুটির জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানালেও তা কার্যকরী হয়নি। 

অবশেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল করোনা ভাইরাস ঝুঁকির হাত থেকে চা শ্রমিকদের রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের চা শিল্পাঞ্চলের মানুষজন সবচেয়ে বেশী অসচেতন। তাদের স্বাস্থ্য সেবার তেমন কোন সু-ব্যবস্থাও নেই। বসতবাড়ির অবস্থাও নাজুক। ফলে রীতিমত করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন দেশের ২৩০টি চা বাগানে কাজ করছেন দেড় লক্ষাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষায় চা বাগানে ছুটির দাবিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা নিজেরা ছুটিতে চলে যান। পরবর্তীতে গত ১১ এপ্রিল সকাল ৯টায় একযোগে ২৩০টি চা বাগানে চা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে সাধারণ ছুটির দাবিতে ১০ মিনিটের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচি শেষে সম্প্রতি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল করোনা ভাইরাস ঝুঁকির হাত থেকে চা শ্রমিকদের রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে লিখিত আবেদন প্রেরণ করা হয়। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরীর স্বাক্ষরিত আবেদন প্রেরণ করা হয়।

চা শ্রমিক নেতা সীতরাম বীন বলেন, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে সারা দেশ এখন করোনা ঝুঁকি, সেখানে একমাত্র দেড় লক্ষাধিক চা শ্রমিকদের ঝুঁকিতে রেখে তাদের ছুটি বাতিল করা হয়। 

তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের ৯৫ শতাংশই নারী শ্রমিক। তাদের কর্মস্থল পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলা ভূমি। সেখানে স্বাস্থ্য সেবার কোন সুবিধা নেই। তারা কোন প্রকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছে না। উত্তোলিত চা পাতা ওজন দিয়ে ট্রাকে তোলার সময় গাদাগাদি করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। তাছাড়া দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে একত্রে বসে খাবার গ্রহণ করেন। 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিযনের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, সারা দেশের ২৩০টি চা বাগানের নিবন্ধিত ও অস্থায়ী মিলিয়ে দেড় লক্ষাধিক চা শ্রমিক রয়েছে। এই দেড় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবার এখন সম্পূর্ণরূপে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছে। 

আরো পড়ুন: যাদের থেকে বিশ্বে ছড়ালো করোনা ভাইরাস

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ৩১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক বলেন-এ বিভাগের চার জেলা করোনামুক্ত। আর চা বাগানেও করোনার শঙ্কা নেই। তবে বর্তমান অবস্থায় সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় করোনা সংক্রমিত রোগী রয়েছে এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যুবরণও করেছে। এখন পুরো বিভাগ লকডাউনে তারপরও চা বাগানের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়নি। তাই চা শ্রমিকদের করোনা ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে তাদেরও মানবিক বিবেচনায় সাধারণ ছুটি দানে নির্দেশনা দিতে চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এরপরও চা শ্রমিকদের ছুটি না দিলে চা শ্রমিক ইউনিয়নের পরবর্তী সভা করে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ইত্তেফাক/এএএম