নারায়ণগঞ্জে ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩০

চলমান লকডাউনের মধ্যে খাদ্যসংকটে পড়ে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে হতদরিদ্র মানুষ। ত্রাণের দাবিতে শত শত লোক গতকাল শনিবার চাষাঢ়া ও লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসরবরাহ হলেও অনেকেই সেটা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সদর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেন কর্মহীন হয়ে খাদ্যসংকটে থাকা শতাধিক নারী-পুরুষ। এ সময় তারা প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। অনেকের অভিযোগ, করোনার এ দুর্যোগ মুহূর্তে গত ২৫ মার্চ থেকে লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে খরচের বোঝা আর টানতে পারছেন না তারা। সে কারণে বাধ্য হয়ে পেটের তাগিদে রাস্তায় নেমেছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েক জন লোক এসে ত্রাণ দিবে বলে ভোটার আইডি কার্ড জমা করতে বলেন। কিন্তু এরপর আর কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। এদিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিন চলছে। সরকারি কোনো ত্রাণ কেউ দেয়নি। যার জন্য বাধ্য হয়ে সবাই রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকার চেয়ারম্যানদের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ত্রাণ দেওয়া হবে।’ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেলা ত্যাগের সময় ২০০ গার্মেন্টকর্মী আটক: করোনা সংক্রমণের ভয়ে ও খাদ্যসংকটে হটস্পট নারায়ণগঞ্জ থেকে রাতের অন্ধকারে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে স্বামী স্ত্রী শিশু সন্তানসহ প্রতিদিনই পালিয়ে যাচ্ছে শত শত লোক। গত শুক্রবার রাতেও ২০০ গার্মেন্টকর্মী পালানোর সময় তাদের আটক করে যার যার বাসায় ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। এ সময় তাদের বহন করা ৫টি ট্রাকও আটক করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, এরা কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট যাওয়ার জন্য ৫টি ট্রাক ভাড়া করে রাতের অন্ধকারে আসবাবপত্র নিয়ে রওনা দিয়েছিল। ট্রাকের চালক হেলপারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি আরো বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আটক করে তাদের বুঝানো হয়েছে এবং বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা নৌ পথেও টহল জোরদার করেছি। প্রত্যেক এলাকার লোক জনদের সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। নয়তো মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস থেকে কেউ রক্ষা পাবে না।

প্রসঙ্গত, করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে প্রতিনিই বাড়ছে করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৩৯ জন। এদের মধ্যে করোনায় মারা গেছেন ২৭ জন।