অনলাইনে কোর্ট পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২২:০২

করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে অনলাইনে উচ্চ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী। চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি। যেহেতু জরুরি অবস্থা জারি নাই সেহেতুে স্বল্প পরিসরে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা হওয়া দরকার। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বরাবর ই-মেইলযোগে এই চিঠি দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম ও পরিচালক অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান শনিবার এ চিঠি প্রেরণ করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ছুটির পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকা লকডাউনসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবিধানে দেশের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার এসব অধিকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংবিধান অনুসারে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের উচ্চ আদালতসমূহ একেবারেই বন্ধ থাকায় নাগরিকরা তাদের অধিকার বঞ্চিত হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই করোনা সংক্রমণের মধ্যেও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় অনলাইনের মাধ্যমে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

করোনা বিষয়ে নির্দেশনা জারির অনুরোধ

করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো ঐ চিঠিতে এই নির্দেশনা জারির প্রার্থনা করা হয়। চিঠিতে টিসিবি এবং ওএমএসের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা, জনসমাগম না করা, চিকিত্সক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা, পিপিই সরবরাহ, অ্যাম্বুলেন্স, যানবাহন এবং আবাসিক আইসোলেশন সুবিধা প্রদান করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাদ্যপণ্য, ত্রাণ বিতরণের জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশনা প্রদানের আরজি জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখিত বিষয়গুলো রিট পিটিশন হিসেবে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও এতে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।