বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১১ কোটি!

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৮

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩০ মানুষের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও যুক্তরাস্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন। তাদের দাবি-বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম করে হলেও সাড়ে ১১ কোটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এই গবেষণাপত্রটি শুক্রবার প্রকাশিত হলেও এখনো এটির মূল্যায়ন কাজ শেষ করেননি বিশেষজ্ঞরা।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, অনেকের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত হলেও তার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি, অর্থাত্ তিনি অসুস্থ হননি। ফলে তার হাসপাতালে যাওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি। পরীক্ষা না করায় অনেকেই এখনো আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হননি।

 যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে প্রথম দিকে আক্রান্ত রাজ্যগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টির ৩ হাজার ৩৩০ মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা বলছেন, পরিসংখ্যানে যা পাওয়া যাচ্ছে তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের বর্তমান সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি; হতে পারে তা ৫০ থেকে ৮৫ গুণ বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩০ হাজারের মতো, এর মধ্যে সান্তা ক্লারায় সরকারি হিসাবে আক্রান্ত ১ হাজার ৮৭০ জন, তার মধ্যে ৭৩ জন মারা গেছেন। তবে গবেষণাটি যখন পরিচালিত হয়, তখন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজারের মতো, আর মারা গিয়েছিলেন ৫০ জন। তবে গবেষকদের দাবি, সান্তা ক্লারায় আসলে ৪৮ হাজার থেকে ৮১ হাজার মানুষের দেহে নতুন এই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে, যা শনাক্ত সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

প্রশ্ন উঠতে পারে এত বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলেও তারা অসুস্থ নন কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে গবেষকরা বলছেন—মানবদেহের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অ্যান্টিবডির কথা বলছেন। স্টানফোর্ডের এ গবেষক দল সান্তা ক্লারার বাসিন্দাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পরীক্ষা করে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের মধ্যে তা দেখতে পেয়েছেন।

তাদের মতে, মানবদেহের এই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সবসময়ই কার্যকর থাকে। মানুষের দেহে যখন বাইরে থেকে অচেনা কিছু প্রবেশ করে, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি তাকে ক্ষতিকর সন্দেহ করে, তখন তা ঠেকাতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। সেই অ্যান্টিবডি তখন নির্দিষ্ট ঐ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বলেই প্রতিনিয়ত নানা রোগ-জীবাণুর মধ্যে থেকেও মানুষ অসুস্থ না হয়ে সচল থাকে। তবে যার প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়, তিনি অসুস্থ হন।

তাদের মতে, কোনো না কোনো পর্যায়ে তাদের দেহেও ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছিল, কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের শরীরের অ্যান্টিবডি লড়াই করেছে। তাই তাদের হাসপাতালে যেতে হয়নি। এর ভিত্তিতে তারা বলছেন, নতুন করোনা ভাইরাস (সার্স সিওভি-২) সার্স কিংবা মার্সের চেয়ে ভয়ানক অবস্থা তৈরি করলেও যে মাত্রায় ভয়ংকর বলা হচ্ছে, আসলে ততটা না।—দ্য গার্ডিয়ান