করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো মৃত্যু ১০

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৬

করোনা উপসর্গ নিয়ে গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ নিয়ে মারা গেলেন মোট ১৫১ জন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে সায়মা আক্তার (৮) নামে এক শিশু মারা গেছে। রবিবার সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা উত্তরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে শিশুটি মারা যায়। সায়মা আক্তার ঐ গ্রামের নূর ইসলাম শেখের মেয়ে। প্রশাসন বাড়িটি লকডাউন করে পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসীম উদ্দীন জানান, ঐ শিশুর পিতা নূর ইসলাম ঢাকার একটি মসজিদে ইমামতি করেন। ছয় দিন আগে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। তিনি করোনার বাহক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া জানান, বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলায় গত শনিবার রাতে কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা.গউসুল আজিম চৌধুরী জানান, ঐ ব?্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তার মরদেহ দাফন করা হবে।

চাটখিল ও সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৫) শনিবার রাতে নিজ বাড়িতে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-জ্বর ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোস্তাক আহমেদ জানান, মহিলা ও তার দুই সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রবিবার সকালে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা এক রোগী (৫৫) গতকাল মারা গেছেন। তিনি নগরীর সাগরিকা এলাকায় থাকতেন। বিআইটিআইডির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান চৌধুরী জানান, শনিবার হাসপাতালে ভর্তির পর পরই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

খুলনা অফিস জানায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মাসুমা (৪৫) নামে এক গৃহবধূ গতকাল দুপুরে মারা গেছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক (মেডিসিন) ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, গত শনিবার রাতে পিরোজপুরের জিয়ানগরের মোতালেবের স্ত্রী মাসুমা করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে খুমেক হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার নমুনা সংগ্রহ করে খুমেকের পিসিআর ল্যাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি গ্রামে একরামুল মোল্লা (৫০) নামে এক মুহুরির মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, গত পাঁচ-সাতদিন ধরে মুহুরি একরামুল মোল্লা সর্দি, জ্বর, কাশি, গায়ে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তবে মৃত একরামুলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, একরামুল হূদেরাগে মারা গেছেন। সাহস ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, একরামুলের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  ডা. শেখ সুফিয়ান রোস্তম জানান, মৃত একরামুল মোল্লার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুই যুবক মারা গেছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জফেরত ইউনুস আলী (২৮) শনিবার বিকালে এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা অপর এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা রশিদুল ইসলাম (৩২) শনিবার রাতে মারা যান। মৃত ইউনুস আলীর বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের চরুয়াপাড়া গ্রামে এবং রশিদুল ইসলামের বাড়ি একই উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এ বি এম আবু হানিফ জানান, দুজনের মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত দুই জনের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এক যুবক (২৩) গতকাল মারা গেছেন। তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন মিটন চাকমা জানান, তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। 

পিরোজপুর অফিস ও মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তি  করোনার উপসর্গ নিয়ে রবিবার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের ছোটো শৌলা গ্রামে। তিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তার দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা বরিশাল মেডিক্যালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্রামের দুটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।