চাল চুরি: এক সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি   

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ১১:০১

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ত্রাণের চুরি ঘটনার এক সপ্তাহ পরও দোষী এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চালসহ নিত্যপণ্য সামগ্রী বিতরণের সময় গত ১৩ এপ্রিল সোমবার সময় স্থানীয় ইউপি মেম্বার শরিফুল ইসলাম ১১টি বস্তা  চালসহ অন্যান্য পন্য সামগ্রী আত্মসাত করেন। পরে জনতার তোপের মুখে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ত্রাণের ওই চাল উদ্ধার করেন।

জানাযায়, ১৩ এপ্রিল সোমবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গরীব-দুঃস্থদের জন্য বরাদ্ধকৃত ত্রাণের চাল বিতরণের সময় ইউপি মেম্বার শরিফুল ইসলাম ১১টি বস্তা ভর্তি চালসহ খাদ্যসামগ্রী চুরির পর সরিয়ে রাখেন। এসময় চাল বিরতণকালে অপেক্ষমান তালিকাভুক্ত ওই এলাকার গরীব-দুঃস্থরা ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এসময় ইউপি মেম্বার শরিফুল ভুক্তভোগীদের জানান, এবার অল্প বরাদ্ধ এসেছে। আগামীতে বরাদ্ধ আসলে তখন আপনাদের ত্রাণ দেয়া হবে। পরবর্তীতে জনতার তোপের মুখে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আত্মসাতকৃত ১১ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। এতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠলেও ঘটনার এক সপ্তাহ পরও চাল চোর শরিফুল মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দুর্নীতিবাজ এ মেম্বারের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী তুলেছে ভুক্তভোগীরা।

উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত ১১টি বস্তার প্রতিটিতে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও ১টি সাবান ছিল। 
ত্রাণ বিতরণ সংশ্লিষ্ট কুমারখালী সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী জানান, ইউপি মেম্বার শরিফুলের নিজ বাড়ি থেকে ত্রাণের সরকারি ১১ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে তিনি কুমারখালীর ইউনওর কাছে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে রিপোর্ট সম্প্রতি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কাছে তা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী করনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা জেলা প্রশসক গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/আরকেজি