এক দিনে সর্বোচ্চ ৪৯২ জন আক্রান্ত

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৩

দেশে করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০১ জনে। করোনায় আক্রান্ত হিসাবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৪৯২ জন। এটি দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৪৮। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো ১০ জন। ফলে এখন পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত মোট ৮৫ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস-সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, তার সঙ্গে ছিলেন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬০৪টি। তিনি জানান, নতুন করে মৃত ১০ জনের মধ্যে পুরুষ আট জন এবং নারী দুই জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ১০ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব চার জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চার জন এবং চল্লিশোর্ধ্ব দুই জন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় মারা গেছেন পাঁচ জন, নারায়ণগঞ্জে চার জন এবং নরসিংদীতে এক জন। নতুন আক্রান্ত ৪৯২ জনের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী গাজীপুরের। কিশোরগঞ্জে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নরসিংদীর রোগী ৬ শতাংশ। আগের মতোই বেশি রোগী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৫৭ জনকে। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন ৭১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪০ জন। এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৫৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টোইনে নেওয়া হয়েছে ৩০ হাজার ৮০৯ জনকে। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬২৬ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২৭০ জনকে। এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৮ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৪৫ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৫ হাজার ৭৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪ হাজার ৬৫৫ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮০ হাজার ৪০২ জন।

বুলেটিনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিত্সাসামগ্রী গ্রহণ এবং তা চিকিত্সক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালসহ সারাদেশের হাসপাতালে এন-৯৫-এর সমমানের মাস্ক সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে সরবরাহ সীমিত থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও পিসিআর এবং কিছু হাসপাতালের ওয়ার্ডে এন-৯৫ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন দেশে প্রতিদিন ১ লাখ উন্নতমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) উত্পাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তার রোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। তবে সোয়া ৬ লক্ষাধিক রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়।