করোনা মোকাবিলা

এডিবির প্রেসিডেন্টকে বর্ধিত সহায়তার অনুরোধ অর্থমন্ত্রীর

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৫

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশির ভাগ দেশে প্রবাসী ভাইবোনেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। এ সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে আরো সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল সোমবার এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে ফোনে আলাপচারিতায় এ সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি খাতে ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এডিবি। এই তহবিল হতে এডিবি জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য ৬০ কোটি ২৩ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ক্রান্তিকালীন সময়ে এডিবির তাত্ক্ষণিক সহায়তাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে আরো অনেক বেশি। বাংলাদেশের ঝুঁঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এডিবি বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবি থেকে বর্ধিত প্রকল্প সহায়তা এবং চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে আসছে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য আরো ১০০ কোটি ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রয়োজন।

করোনা মোকাবিলায় সম্মুখভাবে যারা কাজ করছেন যেমন চিকিত্সা কর্মী, সিভিল প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানকারীদের জন্য ১০ কোটি ডলার, কোভিড-১৯ এর কারণে চাকরি হারানো দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং অতি-ক্ষুদ্র, এসএমই শিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে ১৫ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তাছাড়া বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে দেওয়া ঋণের কমিটমেন্ট চার্জ হ্রাসের অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এডিবি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উল্লিখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশকে সময়মতো অবহিত করবেন বলে জানিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ও এডিবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।