করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। আর এসব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত জাহান। খাবার পেয়ে ভীষণ আনন্দিত এসব নিম্ন আয়ের মানুষ। ৩১ হাজার ৬৮ পরিবারের মধ্যে এসব খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন বলে জানা যায়।
খাবার পেয়ে স্থানীয়দের বলতে শুনা যায়, “ইউনো ছার খাওয়ার দিয়া গ্যাছে, এখুন বাড়িতই থাইকপো।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ হাজার ৬শ’ পরিবারের জন্য জিআর প্রকল্পের চাল প্রক্রিয়াধীন ও রিজার্ভ ২৭ টন। এছাড়া ৩৮ হাজার টাকার শিশু খাদ্য প্রক্রিয়াধীন। আর অবশিষ্ট রয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত অবদি ছুটে চলেছেন ইউএনও ইফ্ফাত জাহান। খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। আর বলছেন, “আপনি ঘরেই থাকুন। আপনাকে সব রকমের সহায়তা দেবে সরকার।”
নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুর রহমান (৩৯)। স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ তার ৫ জনের সংসার। নিয়ম মানতে গিয়ে চার দিন পর ভ্যান নিয়ে বাইরে এসেছিলেন তিনি। রাস্তায় ইউএনও’র দেওয়া খাদ্য সামগ্রী পেয়ে তিনি জানান, “ইউনো (ইউএনও) ছার (স্যার) সড়কের উপ্রে আমার ভ্যান থামায়য়্যা খাওয়ার জিনিস দিয়া গ্যাছে। এখুন আমি বাড়িতই থাইকপো।”
তাড়াশ পৌর শহরের কহিত আঞ্চলিক সড়কের পাশে বসবাসরত মৃত রজব আলীর স্ত্রী আলেকা বেওয়া (৫৬) জানান, “আমি মাইনষের বাড়ি বাড়ি কাম কইর্যা দুই মুট ভাতের জোগার করি। দ্যাশে কি জ্যানি অসুখ আইচ্চে, এখুন আর কেউ বাড়িতই ঢুইকপ্যার দেয় না। উনো (ইউএনও) ছার (স্যার) চাইড্ডো চাইল-ডাইল দিয়া গ্যাছে। তাই খায়য়্যা বাঁইচ্যা আচি।”
সগুনা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নওখাদা গ্রামের দিন মজুর হারেচ আলী জানান, “দ্যাশে করোনা আইচ্চে, তাই গেরামের কেউ কামে লেয়না। বাইর গেরামেও যাইব্যার পারিন্যা। এই কঠিন সোমায় সোরকারি খাওয়ার পায়্যা খুব উপকার হোচে।”
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ইত্তেফাক/আরআই
