আগারগাঁওয়ে কেয়ারটেকার খুনের রহস্য উদ্ঘাটন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০০:২৬

দেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণকাজ। হাতে কাজ না থাকায় শ্রমিকেরা যার যার বাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পাওনা মজুরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তারা একত্রে সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ি যাওয়ার সময় ভবনের পানির পাম্প ও বৈদ্যুতিক তারের বেশ কয়েকটি কয়েল চুরি করে নিয়ে যাবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কেয়ারটেকার আনোয়ার। তারা ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টায় ভবনের ওপর থেকে নিচে নামে। একজন পাহারা দিতে থাকে মূল গেট। অপর চার জন গল্প করার ছলে ঢুকে পড়ে আনোয়ারের ঘরে।  আনোয়ারের হাত পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ এঁটে দেয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভবনের আট তলায়। নাক ও মুখের বাঁধন অনেক শক্ত থাকায় নিস্তেজ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায় আনোয়ার। তার লাশ ৮ তলায় রেখেই শেষ রাতে মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এভাবেই পানির মোটর ও বৈদ্যুতিক তার চুরিতে বাধা দেওয়ায় নির্মাণশ্রমিকরা খুন করে আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবনের কেয়ারটেকার আনোয়ার হোসেনকে (৫৫)। হত্যার পর পুলিশ সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তারের পর তারা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এই তথ্য জানিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার গতকাল সোমবার বলেন, শেরেবাংলানগর থানার নির্মানাধীন একটি ১০ তলা ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন আনোয়ার। তিনি ছিলেন জমির মালিকের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও বিশ্বস্ত। 

করোনা ভাইরাস বিস্তারের মধ্যে ঝুঁকির মধ্যেই পুলিশ একটি তদন্ত টিম গঠন করে। ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচ জনকে। গ্রেফতারের পর থানায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ঘাটিত হয় হত্যার রহস্য।