টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মৃত অন্তঃসত্ত্বা সেই গৃহবধূর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রিপোর্ট নিগেটিভ এসেছে। সোমবার রাতে আইইডিআর থেকে গৃহবধূর রক্তের নমুনা রিপোর্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এসেছে। গত (১৮ এপ্রিল) শনিবার করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গৃহবধূর পরিবার অভিযোগ করেছে, করোনা উপসর্গ নয়, কুমুদিনী হাসপাতালের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানায়, গৃহবধূর নাম কনা বেগম (৩০), স্বামীর নাম মো. মোশারফ হোসেন, গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার জথুকী গ্রামে। গত ১৫ এপ্রিল ৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা সমস্যা নিয়ে কনা বেগম ভর্তি হন। ১৭ এপ্রিল তার অপারেশন হয়। অপারেশনের পর তার শরীরে রক্ত দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার শরীরের জ্বর, তাপমাত্রা বেড়ে খিচুনি ও শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। গত শনিবার আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানান, কনা বেগম করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ঐ গৃহবধূর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিআর পাঠানো হয়। লাশ হাসপাতালে রাখা হয়।
আরও পড়ুন: চাল চুরি: আওয়ামী লীগ নেতাসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলায় গ্রেফতার ১
গৃহবধূর স্বামী মো. মোশারফ হোসেন অভিযোগ, তার স্ত্রীর করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ ছিল না। কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের অবহেলা ডাকতেই আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পর মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে তার করোনা ছিল। এখন রিপোর্ট এসেছে নিগেটিপ। আমি ও আমার পরিবার গত তিন দিন ধরে মৃত স্ত্রীকে নিয়ে চরম ভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছি। কয়েক দিন আগে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি তদন্ত সাপেক্ষে এর ন্যায় বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, খবর পাওয়ার পর কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে ঐ গৃহবধূর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার রিপোর্ট নিগেটিভ এসেছে।
কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. এবিএম আলী হাসান গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কনা বেগমের অপারেশন সঠিক ছিল এবং কোন ভুল চিকিৎসায় মারা যায়নি। অপারেশনের পর তার করোনা ভাইরাস রোগের মত উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে তারা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছিল।
ইত্তেফাক/বিএএফ
