অণুগল্প

ডুব দিয়ো না জলে কন্যা...

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ২১:২৭

নাসরীন মুস্তাফা

 

জলে ডুব দেই না আমি, ভুলেও না।

বহুকাল আগে, ভুল করে একদিন, ডুব দিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর দেখি, আমি মানুষ হয়ে গেছি। কী ভয়ানক অবস্থা! আর কিছু না, মানুষ, মানুষ হয়ে গেলাম! মানুষের মতো খাইদাই-ঘুরি, লম্বা চুলে লাল গেন্দা ফুল গুঁজে ভরদুপুরে জানালার ওপাশে ধোঁয়া ওঠা গরম রোদ দেখি। হাই তুলে ঘেমে ওঠা শরীরের নিচে শীতল পাটি বিছিয়ে পাশ ফিরতেই হঠাত্ হঠাত্ টের পেতাম, পায়ের পাতায় জলের ঢেউ। বাতাসে নোনা স্বাদ। টের পেতাম, জলের স্বাদই বটে এ। নোনতা। আর যেদিন শরীরের কোনাকাঞ্চি ছিঁড়েখুঁড়ে বেতাল হায়েনা ভরা চাঁদকে ডেকে তুলল মাঝ আকাশে, সেদিন টের পাই, রক্তের স্বাদও নোনতাই বটে। মানুষের জীবনে তাই আমি গর্ভে বেড়ে তুলি হায়েনার ছানা। প্রসবেও ঘটে না নতুনত্ব, হায়েনারা মানুষের রূপ নিয়ে চলে যায় মানুষের সঙ্গে অলিখিত চুক্তির জোরে। আমারও তাই দু’পায়ে হাঁটা হয় না খুব একটা। জোরহীন শরীর মাটিতে গড়ায় আর ক্রমশ টের পাই জলের ঢেউ পায়ের পাতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে উঠে আসে উপরে। হাঁটুতে। কোমরে। বুকে। গলায়। একদিন ডুবিয়ে দেয় সর্বস্ব আমার।

ঠিক তখনি জল থেকে মাথা তুলে দেখি, আমি আবার ফিরেছি আমার জীবনে। গোলাপি ডলফিন আমি, সাগর  সৈকতে কী সমাদর আমার! মাথার উপরে ঝকঝকে নীল আকাশ হাসে আর বলে, আর দিবি ডুব? দিবি?

সেই থেকে আমি আর জলে ডুব দেই না। ভুলেও না।