ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম লইয়া খোদ প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন। সেই সঙ্গে তিনি এই ত্রাণ বিতরণে দলমত না দেখিতেও বলিয়াছেন বারংবার। সেই সঙ্গে কেহ অনিয়ম করিলে তাহার বিরুদ্ধে দলমত না দেখিয়া কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে তিনি নির্দেশ প্রদান করিয়াছেন। কিন্তু এই ত্রাণ বিতরণে নানা ধরনের অনিয়ম আমরা শুরু হইতেই লক্ষ করিয়া আসিতেছি। সেই সঙ্গে কিছু জটিলতাও লক্ষ করা যাইতেছে। যেমন, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যেই সকল শ্রমিক ও রিকশাচালক স্তরের মানুষ, বিশেষ করিয়া ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বড়ো শহরে আটকা পড়িয়া আছেন, তাহারা ত্রাণের জন্য গেলে শুনিতে পাইতেছেন, তুমি তো এই এলাকার নহে, তোমার ত্রাণ হইবে তোমার নিজস্ব এলাকা হইতে। এই সমস্যা সমাধানে কী করা যায় তাহা ভাবিতে হইবে। কারণ বর্তমান সমস্যাটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নহে, যাহা আমরা দেখিতে অভ্যস্ত। ইহা একটি ব্যতিক্রমী দুর্যোগ, যাহা সারা বিশ্বকে ভোগাইতেছে। এই রকম অবস্থায় সাহায্য হইবে মানবিক দিক বিবেচনায়। অসহায় মানুষই সর্বাগ্রে ইহা পাইবার অধিকার রাখে। কিন্তু সরকার ত্রাণ প্রেরণ করিতেছে এলাকার প্রকৃত লোকসংখ্যার বিবেচনায়, যদিও তাহা অপ্রতুল। অর্থাত্ যেই পরিমাণ ত্রাণের চাহিদা, সেই পরিমাণ ত্রাণ দেওয়াও সম্ভব হইতেছে না। অন্যদিকে সরকার যেই ৫০ লাখ রেশন কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করিতেছে, তাহা হইতেও এই সম্প্রদায় বঞ্চিত হইবে বলিয়া ধারণা করা যায়। কারণ সেই রেশন কার্ডও এলাকার ভোটার অনুযায়ী এবং স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হইতেছে। ইহারা কিন্তু সংখ্যায় কম নহে। কেবল ঢাকাতেই অবস্থান করিতেছেন এই রকম লাখ লাখ মানুষ, যাহারা সময়মতো নিজস্ব এলাকায় যাইতে পারেন নাই অথবা যাওয়ার সুযোগ হয় নাই।
সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিতে হইবে। সবচাইতে ভালো হয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের—বিশেষ করিয়া রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে নির্দেশ প্রদান করিলে—এই সকল দরিদ্র মানুষের স্থায়ী বসবাস কোন অঞ্চলে তাহা না দেখিয়া, তাহার বর্তমান অর্থকষ্ট এবং প্রয়োজনীয়তার দিকে তাকাইতে হইবে। ইহাই এখন জরুরি ও যৌক্তিক। এই জন্য এই সকল অঞ্চলে বরাদ্দের ক্ষেত্রেও তাহাদের সংখ্যা গণনা হইবে। সেই সঙ্গে আমরা বরাবর যাহা বলিয়া আসিতেছি তাহা আবারও উচ্চারণ করা উচিত। ত্রাণ বণ্টনে কঠোর হাতে স্বচ্ছতা আনিতে হইবে। দলমত দেখা যাইবে না, যাহা প্রধানমন্ত্রীও চাহিতেছেন; চৌর্যবৃত্তি দমন করিতে হইবে কঠোর হস্তে। মনে রাখিতে হইবে, এই মুহূর্তে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই সবচাইতে বড়ো প্রয়োজন। আর সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারই হইল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রধান শর্ত। ইহা কেবল ত্রাণ বিতরণ নহে, পিপিই ও টেস্ট কিট বণ্টন, হাসপাতালগুলিতে সেবা প্রদান এবং নিবিড় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
