রাজশাহীতে করোনার ‘হটস্পট’ পুঠিয়া

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ২২:০১

রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসের ‘হটস্পট’ এখন পুঠিয়া উপজেলা। এ জেলায় মোট সনাক্ত আটজনের পাঁচজনই পুঠিয়ার বাসিন্দা। সনাক্ত রোগীদের সকলেই নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকার পোশাক শ্রমিক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লকডাউন চললেও প্রতিরাতেই ঢাকা অঞ্চল থেকে বিভিন্ন লোকজন কৌশলে বাড়ি ফিরছে। তারা কোনো প্রকার নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে ওই এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল রাজশাহীতে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া-বগুড়াপাড়া গ্রামের একজন পুরুষ পোশাক শ্রমিক। একদিন পর অপর রোগী মহিলা পোশাক শ্রমিক সনাক্ত হয় সদর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামে। গত ১৮ এপ্রিল সনাক্ত হয় ভালুকগাছি-ইন্দনপুর গ্রামের একজন ব্যবসায়ী। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল তারাপুর ও সৈয়দপুর গ্রামের দু’জন নারী পোশাক শ্রমিককে করোনা রোগী হিসেবে সনাক্তকরণ হয়। তারা সবাই সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে ফিরেছেন।

পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, গত দুই সপ্তাহে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পুঠিয়ায় শতশত লোকজন রাতের আঁধারে বাড়ি ফিরেছেন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও তারা দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সবজি ও মাছের ট্রাকে এসেছেন। এর কারণে এই উপজেলায় গত কয়েকদিনে পাঁচজন করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তরা সবাই নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকার পোশাক শ্রমিক।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে তার কাছে ফোন আসছে সম্প্রতি এলাকায় আসা বেশির ভাগ লোকজন হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। তারা বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে এক সময় সাধারণ মানুষ গণহারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আকতার বলেন, ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এই উপজেলায় ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ। আক্রান্তদের নিজ বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসক টিম চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। 

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িসহ তারা যে সকল স্থানে যাতায়াত করছেন সেগুলোকে চিহ্নিত ও লকডাউন করা হয়েছে। যারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছে না তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিয়মভঙ্গ করায় শিলমাড়িয়ার দুইজন ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ