একটি কোম্পানিতে মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরি করেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের পর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন। এরই মধ্যে চিকিত্সা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তিনি। হাসপাতালের চিকিত্সাসেবায় করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়ার অনুভূতি নিজের ফেসবুক আইডিতে তুলে ধরেছেন এক নারী।
করোনাজয়ী সেই নারীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো : ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম কোথায় থেকে চিকিত্সা নিব। আইইডিসিআর এর এক জন চিকিত্সক বলল, আপনার যেহেতু তেমন কোনো উপসর্গ নেই তাই আপনি বাড়িতে থেকেই চিকিত্সা নিতে পারেন। বাসায় বয়স্ক বাবা-মা আর ছোটো ভাগেন থাকায় তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম সার্ভিস যতই খারাপ হোক হাসপাতালে যাব। আইইডিসিআরএ আমার এ সিদ্ধান্তের কথা জানতেই ওরা আমাকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কন্ট্রোল রুমের নাম্বার দিল। এরপর কল দিলাম অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর জন্য... রাত ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা দিলাম হাসপাতালের উদ্দেশে। হাসপাতালে ছিলাম ১০ দিন। এই ১০ দিনে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ফেসবুক খুললেই অনেক কিছু দেখা যায়—যেমন : ছেলে করোনা সন্দেহে মাকে জঙ্গলে ফেলে চলে গেছে। আবার করোনা আক্রান্ত বাবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি... এই রকম খবরে যখন ফেসবুকের নিউজ ফিড ভর্তি ঠিক তখনি এই হাসপাতালে আমার চোখের সামনে পৃথিবী তার অন্য রূপ মেলে ধরল। সেই পৃথিবী ভালোবাসার। একে অপরের পাশে থাকার। স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেছেন, আমি হাসপাতালের যে ফ্লোরে ছিলাম সেখানে বেশির ভাগের অবস্থাই অনেক স্থিতিশীল ছিল... এই ১০ দিনে আমি মৃত্যু দেখেছি। এই ১০ দিনের এমন একটা দিনও ছিল না যেদিন চিকিত্সকেরা দেখতে আসেননি। প্রতিদিন দুইবার করে রাউন্ড দিয়ে গেছেন... রোগীদের সাহস দিয়ে গেছেন... রোগীদের কথা শুনেছেন... সেই হিসেবে প্রয়োজনীয় উপদেশ দিয়েছেন... যে রোগের কোনো মেডিসিন এখনো পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই সেখানে আর কতটুকুইবা করবে চিকিত্সকেরা! আমাকে রিলিজ দেওয়ার আগের দিন এক চিকিত্সক আমাদের বলেছিল, আপনারা রিলিজ নিয়ে চলে যাবেন আর আমরা এখানে ভর্তি হব! তাই বলছি চিকিত্সক-নার্সদের সম্মান করতে না পারেন কিন্তু গালি দিয়েন না। সৈনিক ছাড়া তো আর যুদ্ধ করা যায় না! আর এই করোনাযুদ্ধের আসল সৈনিক তো এরাই... চিকিত্সক-নার্সরা।
সর্বশেষ ঐ নারী লিখেছেন, যেহেতু এই রোগের কোনো মেডিসিন নেই তাই একমাত্র উপায় হলো নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তাই করোনাকে ভয় না পেয়ে রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকে কাজে লাগান। আর যদি এতটুকু উপসর্গ আপনার মধ্যে দেখা দেয়, লুকোছাপা না করে দয়া করে টেস্ট করান, চিকিত্সা নেন। আশা করি আল্লাহর দয়ায় ভালো হয়ে যাবেন।
