সৈয়দপুরে ইটভাটা গিলে খাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৯

সৈয়দপুরের আকাশে উড়ছে কুণ্ডলি পাকানো কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশ্রিত কালো ধোঁয়ার বিষ। ইটভাটার ঝাঁঝালো  ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে চারদিক। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের। গাছে ফলছে না তেমন ফল,  ক্ষেতে হচ্ছে না আশানুরূপ ফলন। ইটভাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি। ইটভাটার তপ্ত আগুনে পুড়ছে এখানকার উর্বর মাটি। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে দো-ফসলি ও তিন-ফসলি জমির উপর গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০টি ইটভাটা। আর এতে জমিতে ফসল না ফলায় বিপর্যয়ে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। অথচ এতোকিছুর পরও হাত গুটিয়ে বসে আছে সংশ্লষ্ট কর্মকর্তারা।

 সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বললে, কৃষক এলাহী বকস সরকার, আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও তোফাজ্জল হোসেন জানান, কামারপুকুর ইটভাটাগুলো গড়ে ওঠেছে উর্বর আবাদি  দো-ফসলি ও তিন-ফসলা উর্বর জমিতে। ইট তৈরির জন্য ভাটা মালিকরা নামমাত্র টাকা দিয়ে দুই-তিন ফিট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া দুই-তিন ফিট মাটি কাটার কথা বললেও অনেক সময় চার-পাঁচ ফিট মাটি  কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

মূলত তারা জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। যা দিয়ে ইট তৈরি করে তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। আর ওইসব জমিতে চার-পাঁচ বছর ধরে কোনো ফসল ফলছে না। দলুয়া এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেন, কিছু কৃষক ইটভাটায় জমি দেওয়ার কারণে জমিগুলো ডোবায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে পাশের উর্বর জমিগুলো ভেঙে পড়ছে ওই ডোবায়। ফলে বাধ্য হচ্ছে অন্য কৃষকরা ইট ভাটায় জমি দিতে। অনেকে মনে করেন, এটা একটা ইটভাটা মালিকদের কৌশল।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মণ্ডল জানান,  জেলার প্রায় সবগুলো ইটভাটাই আবাদি জমির উপর। বিভিন্ন খাদ্য উত্পাদন সমৃদ্ধ উর্বর কৃষি জমির মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। এছাড়া ইটভাটার ফলে ধোঁয়ায় গাছে ফল ধরছে না। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে করে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। আমরা আপত্তি জানালেও কাজে আসে না। কারণ যেহেতু লাইসেন্স দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।