করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক জন নিশ্চিত কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, এই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ইমরানের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কোভিড-১৯ বিষয়ক ফোকাল পার্সন ড. ফয়সাল সুলতান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে কারণ উনি সমাজসেবক ফয়সাল ইধির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছিলেন, পরবর্তীতে পরীক্ষায় যার দেহে প্রাণঘাতী ঐ ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।’ পাকিস্তানের সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইধি ফাউন্ডেশনের প্রধান ফয়সাল ইধি সড়কপথে করাচি থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে করোনা ভাইরাস রিলিফ ফান্ডের জন্য ১ কোটি রুপির একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন।
পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসওপি অনুযায়ী নিশ্চিত কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে পরীক্ষা করাতে হয়। ‘সংস্পর্শে’ আসা বলতে কী বুঝায় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বদ্ধ ঘরে নিশ্চিত এক জন কোভিড-১৯ রোগীর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি যদি ১৫ মিনিট ধরে কথা বলেন অথবা ছয় ফুটেরও কম দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকেন তাকেই সংস্পর্শে আসা বলে।
ঐ কর্মকর্তা বলেন, ‘যদিও ফয়সাল ইধির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র কয়েক মিনিট ছিলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে আমরা দেখেছি তারা দুই জন ছয় ফুটেরও কম দূরত্বে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও তারা হাত মেলাননি, ভাইরাসটি চেকের মাধ্যমেও চলে যেতে পারে। তারপর আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী, এ ধরনের হাই প্রোফাইল ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যায় না। তাই প্রধানমন্ত্রীকে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ ডনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল পর্যন্ত পাকিস্তানে শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭৩৮ জন, মৃতের সংখ্যা ২০৯ ও সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৩ জন।
