নতুন করোনা ভাইরাস মহামারি রূপ নেওয়ায় বিশ্বের ৮২টি দেশে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে লকডাউন চলছে। এই লকডাউনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন অচল। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্বের অন্তত তিন কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি)। এবার তারা বলছে, করোনার কারণে বিশ্ব বড়ো দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। নতুন এই মহামারির কারণে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ খাদ্যসংকটের মধ্যে রয়েছে। তারা বলছে, কোভিড-১৯ এর কারণে পর্যটন খাত ও রেমিট্যান্স খাতে ধস নেমেছ, ভ্রমণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে নানামাত্রিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আরো ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ২৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। ডব্লিউএফপি’র প্রধান ডেভিড বিসলে বলেন, এই বিপর্যয় এড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।
মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া ভাষণে বিসলে বলেন, প্রায় ৩৬ দেশে এই দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তবে সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই দশটি দেশে ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর মুখে রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি। সত্যি বলতে, আমাদের হাতে আর সময় নেই। বিশ্বকে বিচক্ষণতার সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থনীতিবিদ আরিফ হুসাইন এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের জন্য কোভিড-১৯ ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। যারা শুধু আয় করতে পারবে তারাই খেতে পারবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে বিশ্বেকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। অনেকে প্রাণ হারাবে, অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারাবে।
ডব্লিউএফপিও জানিয়েছে, চলতি বছর তাদের সাহায্য কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখতে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
