বিজ্ঞান
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জেএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য বিজ্ঞান বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায়ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর তোমাদের জন্য দেওয়া হবে। আজকে দ্বিতীয় অধ্যায় অর্থাত্ জীবেরবৃদ্ধি ও বংশগতি থেকে
সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নও তার উত্তর দেওয়া হলো। প্রথমে অধ্যায়টি ভালোভাবে পড়বে।
নূসফাত বিনতে নাসির অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তার মা নূরজাহান বেগম মাহে রমজানে ইফতারের জন্য কিছু ছোলা বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখলো। নূসফাত লক্ষ্য করলো প্রতিটি ছোলা বীজের সরু অংশ থেকে সাদার মতো কী যেন বের হয়েছে। সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলে তার বাবা তাকে বললেন, এটি ভ্রুণ থেকে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে উত্পন্ন হয়েছে।
ঘ. উল্লেখিত কোষ বিভাজনের কোন ধাপে ক্রোমোজোমগুলো পানি ত্যাগ করে খাট ও মোটা হয় এবং কোন ধাপে পানি শোষণ করে সরু ও লম্বা হয় তার বর্ণনা দাও।
ঘ-উত্তর: উল্লেখিত কোষ বিভাজনের প্রোফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো পানি ত্যাগ করে খাট ও মোটা হয় এবং টেলোফেজ ধাপে পানি শোষণ করে সরু ও লম্বা হয় । এ ধাপ দুটির বর্ণনা নিচে দেয়া হলো। প্রোফেজ:
১. কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয়।
২. পানি বিয়োজনের ফলে নিউক্লিয়ার জালিকা ভেঙ্গে গিয়ে কতকগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক আঁকাবাঁকা সুতার মতো অংশের সৃষ্টি হয়। এগুলোকে ক্রোমোজোম বলে। এরপর প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড গঠন করে। এগুলো সেন্ট্রোমিয়ার নামক একটি বিন্দুতে যুক্ত থাকে। টেলোফেজ:
১. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুতে এসে পৌঁছায়।
২. এরপর উভয় মেরুর ক্রেমোজোমগুলোকে ঘিরে নিউক্লিয়ার পর্দা এবং নিউক্লিওলাসের পুণ: আবির্ভাব ঘটে। প্রাণিকোষে উভয় মেরুতে একটি করে সেন্ট্রিওল সৃষ্টি হয়।
৩. এ অবস্থায় ক্রোমোজোমগুলো সরু ও লম্বা আকার ধারণ করে পরস্পরের সাথে জট পাকিয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে। এভাবে কোষের দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং ক্যারিওকাইনেসিসের সমাপ্তি ঘটে।
