হাওরের স্বপ্ন যেন বানে না ভাসে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:২৩

চলছে হাওরের ধান কাটার মৌসুম। সিলেট ও ময়মনসিংহের কয়েকটি জেলাজুড়ে বিশাল হাওর অঞ্চল। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুসারে এবার হাওরের সাত জেলায়—কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু হাওরেই রয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমি। বছরে এখানে একটি ফলন হলেও, তা দেশের মোট চালের চাহিদার বেশ বড়ো অংশ পূরণ করে। চলতি বছর হাওরে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। চাষে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ধান পাকতেও হয়েছে দেরি। অন্যদিকে উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও বরাক অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা চলতি মাসের শেষ নাগাদ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা আছে। উজানে বৃষ্টি দীর্ঘায়িত হলে হাওরে বন্যার প্রকোপ বেড়ে যাবে। তখন ধান কাটা কঠিন হবে। তাই এপ্রিলের মধ্যেই হাওরের সব ধান কেটে  ফেলতে হবে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে ধান কাটার শ্রমিক ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিয়ে। হাওরে স্থানীয়ভাবে ১৮ শতাংশ শ্রমিকের জোগান আসে। বাকি ৮২ শতাংশ শ্রমিক আনতে হয় বাইরের জেলাগুলো থেকে। করোনা সংকটের কারণে বর্তমানে দেশব্যাপী গণপরিবহন বন্ধ। এছাড়া অনেক জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় শ্রমিক হাওরে আনা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছেই। এমন অবস্থায় দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে, সময়মতো কৃষকের ঘরে ধান না উঠলে বানের জলে কৃষকের স্বপ্ন ভেসে যেতে পারে, বিঘ্নিত হতে পারে দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তা। করোনাকালে চারপাশের মহামন্দায় নিমজ্জিত অর্থনীতি জাগিয়ে তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। তাই মনে করি, বানের সম্ভাবনা ও করোনা সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকারি সহযোগিতা অন্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক হার্ভেস্টার, পরিবহন গাড়ি, করোনা ঝুঁকিমুক্ত ব্যবস্থাপনায়  শ্রমিক সরবরাহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করা না হলে দেশ ও হাওরবাসী কৃষক এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

কামাল আহমেদ

আশ্রাবপুর, ডাকঘর :রাজার বাজার,

চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ