করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির ঝুঁকি এবং প্রভাবগুলো হ্রাসের সহায়তায় সদস্য দেশগুলোর জন্য এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ১ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করায় এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য আগামী ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
এই বাজেট সহায়তায় কৃষি খাতের অটোমেশন, কৃষিজাত দ্রব্যের প্রক্রিয়াকরণ, ফল ও শাকসবিজ প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ডস্টোরেজ, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোটো, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের পুনর্বাসনের জন্য ১০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার অনুরোধ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার আ হ ম মুস্তফা কামাল এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে টেলিকনফারেন্সে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন। টেলিকনফারেন্সে আরো যুক্ত হন এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ডি. জে পানডিয়ান।
এআইআইবির প্রেসিডেন্টের গতিশীল নেতৃত্বে সদস্য দেশগুলোর করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলেও অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য খাতের জরুরি সেবা ও বাজেট সহায়তার জন্য এআইআইবি বাংলাদেশের জন্য যে ৪৫ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেজন্য ধন্যবাদ জানান। আলাপকালে এআইআইবি প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি নিঃসন্দেহে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। মহামারি মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়েও এখন থেকেই ভাবতে হবে। তা না হলে ২০২১ সালেও অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না। সদস্য দেশগুলো এক সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসবার্তায় জানানো হয়েছে, আলাপকালে তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এআইআইবির অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সমাপ্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এআইআইবির প্রায় ১১৮ কোটি ডলার সহায়তায় সাতটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ২০২০ সালে অনুমোদিত হয়েছে তিনটি প্রকল্প। করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এআইআইবি প্রেসিডেন্ট।
