নির্বাচন ও প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

নির্বাচন মানেই প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন ও প্রতিশ্রুতি শব্দ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নির্বাচনের সময়ে প্রত্যেক প্রার্থী নিজ দলের কেন্দ্রীয়ভাবে গৃহীত নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরে গিয়ে নিজ এলাকার জনজীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পরে তার প্রতিশ্রুতির কতটুকুই বা করেন, তা সময়ই বলে দেয়।

নির্বাচন হলো প্রতিনিধি বাছাইয়ের মাধ্যম। আর তা যত সুষ্ঠু হবে ততই জনগণের আশা-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। এর মাধ্যমেই জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন, সর্বত্র জনগণের অংশগ্রহণই নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত করে। কিন্তু সেখানে যদি জনগণ তাদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তা প্রশাসন তথা দেশের ব্যর্থতারই পরিচয় বহন করে। নির্বাচন আসন্ন হলেই প্রার্থীরা ছুটে বেড়ান পথে-প্রান্তরে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তখন তারা বিভিন্ন এলাকার সবচেয়ে নিম্নআয়ের লোকের কাছে যেতেও দ্বিধান্বিত হন না। সর্বসাধারণের দ্বারে দ্বারে নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নে নিজের অবদান জনগণের সামনে তুলে ধরেন। জনগণকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। এসময় বিরোধী দলের নিন্দা আর নিজ দলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করা  তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

নির্বাচন আসলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে নির্বাচনী ইশতেহার যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবেও পরিগণিত। নির্বাচনের সময়েই প্রত্যেক প্রার্থী নির্দিষ্ট এলাকার উন্নয়নকল্পে জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত ইশতেহার প্রণয়ন করেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বিভিন্ন পথসভা, মিটিং-মিছিল, লিফলেটের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতিসমূহ প্রচার করে থাকেন। তবে দুঃখের বিষয়, নির্বাচিত হওয়ার পরে অনেক সময়ই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিকে ভ্রূক্ষেপই করেন না। তা খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন তারা হয়ে ওঠেন আত্মকেন্দ্রিক। যাদের ভোটে নির্বাচিত নেতা, সেই ভোটাররাই হয়ে যায় উপেক্ষিত। তখন তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ভুলে যান জনগণের কষ্ট ও দুর্দশার কথা। যে বা যারা নির্বাচনের সময় জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারাও ভুলে যান যে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করা তাদের একান্ত কর্তব্য। বরং যারা ভোটের জন্য জনগণের কাছে ধর্ণা দিতো, নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের কাছেই জনগণকে বারবার ধর্ণা দিতে হয়। মাঝে-মধ্যেই শোনা যায়, নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচিত প্রার্থীর কোনো সাক্ষাত্ই ভোটাররা পায় না।

সময়ের পরিক্রমায় আবারও আমাদের সামনে এসেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আশাকরি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। কোনো দলই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। আর এ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যে বা যারাই নির্বাচিত হবেন, তারা জনগণ তথা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। দেশকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রায় প্রত্যেক নির্বাচিত প্রার্থী বদ্ধপরিকর থাকবেন এই প্রত্যাশা করি।

আমরা আশাবাদী আগামীর নেতৃত্ব হবে আরো জনকল্যাণমূলক ও জনবান্ধব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জনমতের প্রাধান্য, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ দুর্নীতির অবসানের মাধ্যমে দেশ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিপ্লবের সূচনা করবে এবং উন্নয়নের জোয়ারে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

n লেখক:শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়