যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত আগামী ৬০ দিন কার্যকর থাকবে। তবে এর মেয়াদ পরবর্তী সময়ে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও কিছু কিছুু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে—তাতে মার্কিনিদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, করোনা মহামারির ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচনের বছরে কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। খবর :বিবিসি ও সিএনএনের।
অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধতা এবং মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেয় গ্রিন কার্ড। সাধারণত, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ গ্রিন কার্ড অনুমোদন করা হয়। ২০১৮ সালে মার্কিন সিনেটের দেওয়া এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১০ লাখ গ্রিন কার্ডের প্রায় ৭০ শতাংশ পায় এমন অভিবাসীরা, যাদের আত্মীয়স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।
বুধবার হোয়াইট হাউজে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাহী আদেশে সই করার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরায় সচল হলে এর মাধ্যমে সব ধরনের আমেরিকানের প্রথমেই চাকরি পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে।
নতুন গ্রিন কার্ড ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কিছু ছাড় দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রী এবং ছোটো সন্তানদের জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না। চিকিত্সক, নার্স বা চিকিত্সাসেবা সংক্রান্ত অন্য পেশাজীবী, যারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করেছেন, তারাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তবে গ্রিন কার্ডধারীদের নিজ পরিবারের সদস্যদের স্পন্সর করার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এছাড়া, এই আদেশের মাধ্যমে ডিভি ভিসা লটারিও স্থগিত করা হয়েছে। যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৫০ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়।
