কেশবপুরের শশুরবাড়িতে করোনায় আক্রান্ত মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্য সহকারীর দ্বিতীয় দফায়ও নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাকে কেশবপুর উপজেলার ইমানগর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। তার সংস্পর্শে থাকা এক শ্যালকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে।
দ্বিতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়লেও তাকে ইমাননগর গ্রাম থেকে হাসপাতালে না নেয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বার বার তাকে ওই গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেয়ার দাবি করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ওই দাবি উপেক্ষা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি যে বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই বাড়ির পাশেই চারটি প্রতিবন্ধি শিশু রয়েছে। তারা সময় অসময়ে দৌড়ে ওই বাড়িতে গিয়ে উঠছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওই বাড়ি থেকে হাসপাতালে না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। একারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাড়ি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে, ইমাননগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চিকিৎসাধীন স্বাস্থ্য সহকারীর সংস্পর্শে থাকা এক শ্যালক আক্রান্ত হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ওই যুবক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র। বুধবার দ্বিতীয় দফায় ওই স্বাস্থ্য সহকারীর নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তার শ্বশুর বাড়ির অন্যান্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে প্রেরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার নমুনা পরীক্ষায় ওই ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়। মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নতুন আক্রান্ত মাদ্রাসা ছাত্রকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও পূর্বের আক্রান্ত স্বাস্থ্য সহকারীকে না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি প্রথম দিনই আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার শ্বশুর বাড়ির অন্য সদস্যরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতো না।
গত ১২ এপ্রিল যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ আবু শাহীন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ দিলীপ রায় ইমাননগর গ্রামে উপস্থিত হয়ে করোনায় আক্রান্ত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । এসময় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী উপস্থিত ছিলেন।
কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ইমাননগর গ্রামটি তার ইউনিয়নে হওয়ায় মনিরামপুরের আক্রান্ত ব্যক্তিকে শ্বশুর বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ । ওই সময় দাবি করা হয়েছিল আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। ধারনা করা হচ্ছে একারনেই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা অন্যরাও নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত ওই স্বাস্থ্য সহকারীকে ইমাননগর গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেয়ার জোরালো দাবি উঠেছে এলাকায়।
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, তাঁর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্য সহকারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর উপজেলার ইমাননগর গ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই বাড়ির এক সদস্য নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, মনিরামপুরের স্বাস্থ্য সহকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইমাননগর গ্রামে শশুর বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই বাড়িতে আরো একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত বক্তিকে মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দীন বলেন, করোন আক্রান্ত রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। সেখানে একটি পুলিশ টিম রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, এবিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম
